***ডা: ফারহানা মোবিন***
নুডুলস ছোট বড় সব বয়সের মানুষের জন্য উপকারী। নুডুলস তৈরি হয় আটা, ময়দা, আলু, মিষ্টি আলু, বিভিন্ন ধরনের ডাল দিয়ে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ধরনের নুডুলস পাওয়া যায়। আমাদের দেশে আটা, ময়দা দিয়ে তৈরি নুডুলস পাওয়া যায় বেশি। ছয় মাস পর্যন্ত শিশুদের শুধুমাত্র মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো উচিৎ। ছয় মাসের পর এবং যেসব শিশুরা ভাত তরকারী সবজি চিবিয়ে খেতে পারে, তাদেরকে নুডুলস দেওয়া যাবে।
নুডুলসের মধ্যে রয়েছে শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট, আমিষ, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, ফাইবার বা আঁশ জাতীয় উপাদান এবং বিভিন্ন ধরনের খনিজ লবন, স্নেহ বা চর্বি জাতীয় উপাদান। শর্করা বা কার্বোহাইড্রেটের প্রধান উপাদান হলো গ্লুকোজ বা চিনি। চিনি আমাদের শক্তি যোগায়, মস্তিস্ককে সুষ্ঠু ভাবে কাজ করতে সাহায্য করে। রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়িয়ে তোলে। দেহের অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক অংগ প্রতঙ্গ গুলোকে পুষ্টি যোগায় শর্করা জাতীয় খাবার।
নুডুলসের ভিটামিন বি কমপ্লেক্স আমাদের দেহে লোহিত রক্ত কনিকা তৈরি করে। আমাদের পা থেকে মাথা পর্যন্ত রয়েছে অসংখ্য স্নায়ু। দেহের স্নায়ুগুলোকে শক্তিশালী করে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স। দেহের শিরা ও উপশিরাতে অক্সিজেনের সরবরাহ বৃদ্ধি করে। পরিনামে রক্ত সঞ্চালনের গতি ঠিক থাকে।
শর্করা এবং আমিষ জাতীয় খাবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। শিশু কিশোররা সাধারণত সবজি খেতে চায় না। অসংখ্য শিশু কিশোর কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগে। নুডুলস কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়। নুডুলসের ফাইবার জাতীয় উপাদান শুধু মাত্র ছোট নয়, বড়দেরও দীর্ঘ সময় পেট ভরে রাখতে সাহায্য করে। তবে ছোট বড় সবারই শুধু মাত্র নুডুলস না খেয়ে, নুডুলসের সাথে বাদাম সবজি মাংস কলিজা মিশিয়ে খেলে, সেটা হবে ভীষন উপকারী খাবার।
ছোটরা সবজি খেতে চায় না। শিশু বয়স থেকেই সবজি খাবার অভ্যাস গড়তে হবে। নুডুলস এর সাথে বাদাম, মাংস, কলিজা, সবজি মিশিয়ে শিশু কিশোরকে খাওয়ানোর চেষ্টা করতে হবে। শিশু কিশোরদের জন্য মুরগির মাংশ ভীষন পুষ্টিকর খাবার। মাংসের মধ্যে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমানে প্রোটিন বা আমিষ। আমিষ আমাদের শক্তি যোগায়, মাংশপেশি ও হাড়কে করে মজবুত। মেধা বিকাশের সাহায্য করে। রোগ প্রতিরোধ শক্তিকে বাড়িয়ে তোলে।
নুডুলস নিয়মিত মাখন বা ঘি দিয়ে তৈরী না করে মাঝে মাঝে ঘি বা মাখন দেওয়া উচিৎ। মাখন বা ঘি এর মধ্যে রয়েছে উচ্চ মাত্রার ক্যালরি, ক্যালসিয়াম, খনিজ লবন, আমিষ, ভিটামিন ডি, আয়রন, সোডিয়াম ক্লোরাইড, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স এবং বহুবিধ পুষ্টি।
এখনকার শিশু কিশোরদেরকে লেখাপড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের সৃজনশীল কাজে সংযুক্ত থাকতে হয়। সঠিক খাবারের অভাবে তাদের দেহে পুষ্টির ঘাটতি তৈরি হয়। মেয়োনিজ ঘি মাখন তাদের মেধা বিকাশের সহায়ক হবে। তবে অতি মাত্রায় ঘি মাখন তাদের ওজন বাড়িয়ে তুলবে। অতি মাত্রায় ওজন সব বয়সি মানুষের জন্য ঝঁুকিপূর্ন। শিশু কিশোর বয়স থেকেই বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী মাত্রাতিরিক্ত ওজন হলে, সেইসব শিশু কিশোর কিশোরি পরবর্তিতে দ্রুত ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হাই কোলেস্টেরল, ফ্যাটিলিভার, বন্ধাত্বের সমস্য সহ আরো বহুবিধ অসুখে আক্রান্ত হয়। তাই শুধু মাত্র নুডুলস নয়, যেকোনো ফ্রোজেন খাবার এর জন্য নিয়মিত ঘি মাখন বাদ দিয়ে মাঝে মাঝে দিতে হবে। তবে শিশু এবং বাড়ন্ত বয়সের ছেলে মেয়েদেরকে নিয়মিত দুধ ডিম মাছ মাংস বিভিন্ন রকমের শাক সবজি ও ফল খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে।
নুডুলস ভীষন পুষ্টিকর খাবার। তবে প্রতিদিন শুধু মাত্র নুডুলস খেলে পুষ্টির ঘাটতি হবে। নুডুলসের প্রধান উপাদান আটা ময়দা। শুধুমাত্র নিয়মিত নুুডুলস ছোট বড় সবারই ওজন বাড়াবে। আর তৈরি করবে পুষ্টিহীনতা। এই জন্য নুডুলসের সাথে বহু রকম সবজি বাদাম মিশাতে হবে। বাদাম সব বয়সের মানুষের জন্য খুব উপকারী। বাদামের মধ্যে রয়েছে ক্যালসিয়াম আয়োডিন, আয়রন বিভিন্ন রকমের খনিজ লবন, দেহের জন্য উপকারী ফ্যাট। বাদাম হৃদপিন্ডকে ভালো রাখে। দেহের কাটা ছেড়া শুকাতে সাহায্য করে। বাড়ন্ত শিশু এবং কিশোরদের দাঁত চুল হাড় নখের পুষ্টি ও বৃদ্ধির জন্য বাদাম অপরিহার্য। বাজারে তেলে ভাজা বিভিন্ন ধরনের বাদাম পাওয়া যায়। তেলে ভাজা বাদাম এর পরিবর্তে খোশা ছাড়ানো বাদাম, কাঠ বাদাম, কাজু বাদাম সব বয়সের মানুষের জন্য ভীষন পুষ্টিকর। যেসব শিশু কিশোর অধিক ওজন সম্পন্ন তাদেরকে বাদাম অল্প পরিমানে খাওয়া উচিত। কারন বাদাম ওজন বাড়াতে সাহায্য করে।
নুডুলসের মধ্যে টেস্টিং সল্ট যতটা কম ব্যবহার করা যায় ততটাই ভালো। অতি মাত্রায় টেস্টিং সল্ট রক্তে চর্বির মাত্রা বড়িয়ে দেয়। তখন মানুষ উচ্চরক্তচাপ, ডায়বেটিস, ফ্যাটিলিভারের দিকে এগিয়ে যায়।
বিভিন্ন শপিং মল বা মার্কেটে তৈরি করা নুডুলসের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। নুডুলস ওজন বাড়াতে সাহায্য করে। তাই অভিভাবককে অবশ্যই শিশু কিশোরকে শুধু মাত্র নুডুলস নয়, সব ধরনের খাবারের পাশাপাশি নিয়মিত খেলাধুলা করতে হবে। খেলাধুলা শিশু কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য অপরিহার্য্য।
ডা: ফারহানা মোবিন
মেডিকেল অফিসার, গাইনী বিভাগ, বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হসপিটাল লিমিটেড, ঢাকা।