এম.এ.এইচ রাকিবুল ইসলাম,ত্রিশালঃ
ময়মনসিংহের ত্রিশালে মাত্রাতিরিক্ত ও অস্বাভাবিক লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী। দিনে-রাতে দফায় দফায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
২১ আগষ্ট (শুক্রবার) দুপুরে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ত্রিশাল বিদ্যুৎ অফিসের সামনে জড়ো হয়ে লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদ জানান। এ সময় তারা নিয়মিত ও সহনীয় মাত্রায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, তীব্র গরমের মধ্যে ত্রিশালে বর্তমানে দিনে ও রাতে অস্বাভাবিক হারে লোডশেডিং হচ্ছে। অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। আবার বিদ্যুৎ এলেও কিছুক্ষণ পরই চলে যাচ্ছে। এতে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ত্রিশাল পৌর শহরের বাসিন্দা আবু বকর সিদ্দিক সিফাত (২৫) বলেন, “ত্রিশালে দিনে-রাতে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষ সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
এর পাশাপাশি আমাদের নওধার ভাংতি রোডে ট্রান্সমিটার নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে টালবাহানা চলছে। কয়েক দফায় অফিসের কর্মকর্তাদের কাছে ট্রান্সমিটার বাবদ টাকা জমা দেওয়া হলেও এখনো এর কোনো নিষ্পত্তি হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি ঝুলে থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। একদিকে ট্রান্সমিটারের সমস্যা, অন্যদিকে এখন অস্বাভাবিক লোডশেডিং, সব মিলিয়ে আমরা চরম ভোগান্তিতে আছি। এসব সমস্যা সমাধানের দাবিতেই আমরা বিদ্যুৎ অফিসে এসে বিক্ষোভ করেছি। দ্রুত ট্রান্সমিটারের বিষয়টি নিষ্পত্তি এবং অস্বাভাবিক লোডশেডিং বন্ধ করে স্বাভাবিক ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।”
স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। রাতের বেলায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ঘুম ও স্বাভাবিক জীবনযাপনও ব্যাহত হচ্ছে।
এলাকাবাসী দ্রুত নওধার ভাংতি রোডের ট্রান্সমিটার সমস্যার সমাধানসহ অস্বাভাবিক লোডশেডিং কমিয়ে নিয়মিত ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তবে এ বিষয়ে ত্রিশাল বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।