প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, চব্বিশের আন্দোলনে ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অকাতরে জীবন দিয়েছেন। এই মেডিকেল কলেজ শুধু ডাক্তার তৈরি করেনি, সমাজনেতাও তৈরি করেছে। ঢাকা মেডিকেল এখন রাজধানীর মানুষের নির্ভরতার প্রতীক।
শনিবার (১১ জুলাই-২০২৬) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি পর্যায়ে দেশে ২৫ হাজার ধাত্রী নিয়োগ করা হবে। তারা মায়েদের নরমাল ডেলিভারিকরাতে উৎসাহ দেবেন। এছাড়া ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী ও ২৫ হজার মিডওয়াইফ নিয়োগ করা হবে। উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে ৫১ বেডের হাসপাতালগুলো ১০০ বেডে উন্নিত করা হবে। সরকারি চিকিৎসাসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চায়। গ্রাম থেকে অধিক সংখ্যক রোগীকে চিকিৎসার জন্য যেন ঢাকায় আসতে না হয়, এজন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের প্রান্তিক পর্যায়ে রোগীদের সেবা দেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের চিকিৎসকরা আমার মাকে যে সেবা দিয়েছেন, সেটা বিদেশে পাওয়া যেত না। কয়েকজন চিকিৎসক আমার মাকে অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে চিকিৎসা দিয়েছেন। মৃত্যুর কিছুদিন আগেও তিনি চিকিৎসার জন্য বিদেশে গিয়েছিলেন। তাকে আবার বিদেশে নেওয়ার ব্যাপারে যখন কথা চলছিল, আমি বলেছিলাম, এখন যারা সেবা দিচ্ছেন, এই হিউম্যান টেককেয়ার বিদেশে পাওয়া যাবে না।’
তিনি চিকিৎসকদের উদ্দেশে বলেন, যারা চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত রয়েছেন, প্রত্যেকের মানুষের মনোজগতে আপনারা এমন একজন মানুষ, যাদের কাছে আমরা ভরসা করি। যাকে পরম বন্ধু ভাবি। একজন মানুষ যখন বিপদে পড়ে আকেরজনের কাছে যায়, তখন তার ওপর পরম ভরসা করে বলেই যায়।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, হেলথকেয়ারারকে আমরা বিশেষ প্রশিক্ষণ দেব, তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষকে সচেতন করবেন। যাতে রোগ-বালাই কম হয়, সেদিকে তারা জোর দেবেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তার সহধর্মিণী ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ডা. জুবাইদা রহমান।
সকালে ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাসে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। তার আগমনকে ঘিরে সকাল থেকেই ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।