নিজস্ব প্রতিবেদক:
কালের বিবর্তনে বহু স্থাপনা হারিয়ে গেলেও চার শতকেরও বেশি সময় ধরে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার ধলা ইউনিয়নের সেকান্দরনগর সাহেববাড়ি জামে মসজিদ। গম্বুজ, মিনার, খিলান ও কারুকাজে মোগল আমলের স্থাপত্যশৈলীর ছাপ রয়েছে প্রাচীন এই মসজিদে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মসজিদটি আনুমানিক ১৬০০ শতকের দিকে নির্মিত। পোড়া ইট, চুন-সুরকি, খয়ার ও সুপারির কষসহ তৎকালীন নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছিল বলে স্থানীয়দের দাবি।
মসজিদের ছাদে রয়েছে তিনটি গম্বুজ—মাঝে বড় এবং দুই পাশে ছোট দুটি। ওপরের অংশে রয়েছে অষ্টভুজাকৃতির ১২টি ছোট মিনার। ভেতরে রয়েছে নান্দনিক মিহরাব। নামাজকক্ষে প্রায় ৭০-৭৫ জন এবং বাইরের আঙিনায় আরও প্রায় ২০০ মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন।
মসজিদের পাশেই রয়েছে একটি প্রাচীন জলাশয়। স্থানীয়দের মতে, একসময় মুসল্লিদের অজুর সুবিধার জন্য এটি খনন করা হয়েছিল। মসজিদের ইমাম মাওলানা সৈয়দ আবু সায়েম জানান, ১৯৯৮ সালে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ মসজিদটির সংরক্ষণকাজ করে। ২০২৫ সালে জলাশয়ের পাড় রক্ষায় নির্মাণ করা হয় প্রতিরক্ষা প্রাচীর।
স্থানীয়ভাবে প্রচলিত ইতিহাস অনুযায়ী, হজরত শাহ সেকান্দরের নামানুসারেই এলাকার নাম সেকান্দরনগর হয়।
স্থানীয়দের কাছে মসজিদটি শুধু উপাসনালয় নয়, এটি পূর্বপুরুষের স্মৃতি ও এলাকার ঐতিহ্যের অংশ। ঐতিহাসিক স্থাপনাটি সংরক্ষণে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও আরও গবেষণার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
চার শতকের ইতিহাস বুকে ধারণ করে সেকান্দরনগর সাহেববাড়ি জামে মসজিদ আজও দাঁড়িয়ে আছে কালের সাক্ষী হয়ে।