আব্দুল মান্নান সিদ্দিকী:
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে পদ্মা নদীর নব্যতা হারিয়ে যাওয়া ও চরপরায় বাঘরা বাজারের ঐতিহ্য বিলীন।
জানাযায়, মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার বাঘরা গ্রামের বাঘরা বাজারটি ছিল উপজেলার মধ্যে সর্ববৃহৎ বাজার।ক্রেতা ও বিক্রেতার উপস্থিতিতে সরগরম বাজার হিসাবে সবার কাছে ছিল সুপরিচিত ।এ বাজারে কবুতর খোলা , ভাগ্যকূল , কামারগাঁও ,কাঠালবাড়ি ,বৈচারপার ,কাদির কান্দা,রুদ্রপাড়া ,জাহানাবাদ ,ছত্রভোগ ,ফুলতলা ,শাইনপুকুর ,মরিচ পট্টি,মৌরা,মইত পড়া সহ আশেপাশের গ্রামের শত শতক্রেতা বিক্রেতা ছুটে আসতেন তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয় বিক্রয় করতে । এছাড়াবাজারটি পদ্মা নদীর পাড়ে হওয়ায় নদী পথে লঞ্চ চলাচলরত লঞ্চের যাত্রীরা লঞ্চ হতে নেমে এ বাজারে তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য ক্রয় করে বাড়ি ফিরতেন ।
পদ্মা নদীর বুকে ছোট ছোট নৌকা দিয়ে মাছ ধরতেন জেলেরা সে মাছবিক্রি হতো এ বাজারে ,ধান,পাটের ব্যাপারীরা পাল তোলা নৌকা নিয়ে তাদের ধান ও পাট ক্রয় বিক্রয় করতে আসতেন এ বাজারে।রবি ও বৃহস্পতিবারছিল হাটবাজার ।এ হাটে সকল প্রকার দ্রব্যাদি পাওয়া যেত।প্রতি হাটে শত শত ক্রেতা আসতেন তাদের পণ্য ক্রয় ও বিক্রয় করতেতাদের উপস্থিতি বাজারটি সরগম হয়ে যেত ।
ইঞ্জিন চালিত নৌকায় চড়ে শরীয়তপুর সহ পদ্মার পাড়ের কাছাকাছি অবস্থিত গ্রামের ক্রেতা বিক্রেতারা আসতেন এবাজারে।
পদ্মা নদীর নব্যতা হারিয়ে যাওয়ায় ও নদীতে চর পড়ায় লঞ্চ ,স্টিমার ,ইঞ্জিন চালিত নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ও বন্যায় বাজারটির কিছু দোকান বিলীন হয়ে যাওয়ায় ।পদ্মা নদীর দক্ষিণ পাড়ে অবস্থিত ক্রেতা বিক্রেতা আর এই বাজারে আসছেন না ।
অপরদিকে কামারগাঁও ঐতিহ্যবাহী আল আমিন বাজার,ফুলতলা বাজার সহ ঢাকা দোহার সড়কের মোড়ে অলি গলিতে দোকানও বাজার হওয়ায় ,হাতের কাছেই মাছ সবজি সহ নিত্য প্রয়োজনীয় পাওয়াযায় বলে ক্রেতাদের উপস্থিতি কম ।তবে বাজারটি টিকে আছে।
গ্রামের পাড়া মহল্লায় ,ঢাকা দোহারের রাস্তার পাশে অবস্থিত দোকানদারএবাজারে আসেন পাইকারি দ্রব্য ক্রয় করতে ।
কালিপদ সাহা স্টোরের স্বত্বাধিকারী মনোরঞ্জন সাহা জানান , দোকানে খুচরো ও পাইকারি ক্রেতা আসেন । বিক্রিও ভালো যা আয় হয় তার দিয়ে তার সংসার ভালোভাবেই চলে ,চাউল দোকানদার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানান , তিনি খসড়া ও পাইকারি দুই ভাবেই চাউল বিক্রি করে থাকেন বেচাকেনা মোটামুটি ভালো ,ফার্মেসিস্ট উত্তম জানান ,বাজারে তুলনা মূলকভাবে ক্রেতা উপস্থিতি কম হলো ও ঔষধ বিক্রি করে দোকানে যা আয় হয় তা দিয়ে ভালোভাবেই চলে তার সংসার ।
এছাড়া বাণিজ্যিক ব্যাংক থাকায় প্রবাসীরা টাকা পাঠান ব্যাংকে প্রবাসীদের টাকা উত্তোলনে আসেন তাদের নিকট স্বজন ,
সে সুবাদে প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয় করেন ,এছাড়াও বাজারটিতে রয়েছে ,মিষ্টি , কাঠের দোকান ,সমিল আছে যাদের অতীব জরুরী প্রয়োজন তারাই এবাজারে আসেনএসব দ্রব্য ক্রয় করতে ।
বিক্রেতারা আরো জানন, নদী ভাঙ্গনের ফলে দোকান বিলীন হওয়ায় ও পদ্মা নদীতে চর পড়ায় বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি কম ।প্রকৃতির ওপরে তো কারো হাত নেই তা মেনেই তাদেরচলতে হবে।