• শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ১০:২১ অপরাহ্ন
Headline
দীর্ঘদিন পর তিন বন্ধুর দেখা, গল্প-স্মৃতিচারণ আর খুনসুটিতে ফিরল হারানো দিনের স্মৃতি মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবেঃ ওসি কামরুল হাসান  মতলব উত্তরে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) উপলক্ষে জশনে জুলুসে ও আলোচনা সভা ইলিশের রাজধানী চাঁদপুরের নদীর বুকে সুপ্রভাত মঞ্চের স্মরণীয় আনন্দযাত্রা সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ালে একটি সুন্দর ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভমঃ খায়রুল হাসান বেনু ত্রিশালে অস্বাভাবিক লোডশেডিং, বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত দিনাজপুর বীরগঞ্জে বিপর্ণা নামীয় এক কিশোরীর রহস্য জনক ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ ধর্মসাগর পাড় সুপ্রভাত মঞ্চের আনন্দ ভ্রমণ: ইলিশের রাজধানী চাঁদপুরের মোহনায় মিলবে গান, আড্ডা ও আনন্দ প্রবীণ রাজনীতিবিদ তপন বকসীর মৃত্যুতে চান্দিনায় শোকের ছায়া

সেতুটি নির্মাণ ব্যয় ৪,৭৮৩ কোটি টাকা

ধনাগোদা নদীর ওপর মতলব-গজারিয়া ঝুলন্ত সেতু প্রকল্প পরিদর্শনে কোরিয়ান প্রতিনিধি দল

Lovelu / ৩০৫ Time View
Update : শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চাঁদপুরের মতলব উত্তর ও মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ার ধনাগোদা নদীর ওপর ঝুলন্ত সেতু প্রকল্প পরিদর্শনে করেছেন কোরিয়ান প্রতিনিধি দল। শুক্রবার (২৮ নভেম্বর-২০২৫) সেতু এলাকার ওপর আকাশপথে হেলিকপ্টার সার্ভে করেন কোরিয়ান ফান্ডিং এর প্রতিনিধি মিস্টার বিয়ন, মিস্টার পার্ক, মি. সিন এবং দোভাষী মো. বাবলু ভূঁইয়া। এ সময় সাথে ছিলেন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্ত ও দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব ড. মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন।

 

 গত ৬ নভেম্বর সেতুর স্থান পরিদর্শন করেন সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ,সেতু মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ভিখারোদ্দৌলা ভুলু চৌধুরী’সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।

 

 কোরিয়ান প্রতিনিধি দল সেতু প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন শেষে তারা হেলিকপ্টারটি অবতরণ করেন মতলব উত্তর উপজেলার কালিপুর বাজার সংলগ্ন মাঠে। সেখানে স্থানীয় নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তারা প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে মতবিনিময় করেন। সভায় বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্ত ও দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব ড. মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন।  বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার ওবায়দুর রহমান টিপু, জেলা বিএনপি সহ সভাপতি অধ্যাপক ডা. শামিম আহাম্মেদ, কেন্দ্রীয় সেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহ-সভাপতি আজহারুল হক মুকুল, বিএনপি নেতা আনিছুর আউয়াল প্রমুখ। সভাটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মিয়া মনজুর আমিন স্বপন।

 

আলহাজ্ব ড. মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেন, এই সেতু শুধু মতলব নয় চাঁদপুর, মুন্সিগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালীসহ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা পাল্টে যাবে। এই সেতু দেশের অর্থনীতিতে নতুন গতি আনবে। শিল্পাঞ্চল, পর্যটন ও কর্মসংস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। সেতু হলে মতলব-গজারিয়া অঞ্চল রাজধানীর সঙ্গে দ্রুত যুক্ত হবে।

 

এসময় উপস্থিত ছিলেন, ছেংগারচর পৌর বিএনপির সভাপতি নান্নু মিয়া প্রধান, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক তোফায়েল পাটোয়ারী, উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রাশেদুজ্জামান টিপু, উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. শাহজালাল, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নুরুল হুদা ফয়েজী, সদস্য সচিব জয়নাল পাটোয়ারী পিনু’সহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

 

সেতু মন্ত্রণারয় সূত্রে জানা যায়,২০২৩ সালের ৩১অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি একনেক সভা এ সেতুটির অনুমোদন দেওয়া  হয়। সেতু নির্মাণে ই ডি সি এফ (ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ফান্ড) দক্ষিণ  কোরিয়া এক্সিম ব্যাংক সহজ শর্তে (০.০১%) হারে ঋণ দিয়েছে।মতলব উত্তর – গজারিয়া মেঘনা-ধনাগোদা নদীর ঝুলন্ত সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৭৮৩ কোটি  টাকা। সেতুর দৈর্ঘ্য ১.৮৫ কিলোমিটার। সংযোগ সড়কের দৈর্ঘ্য ৭.৫১ কিলোমিটার (গজারিয়া অংশে ৫.৪৬০ কিলোমিটার ও মতলব উত্তর অংশে ২.০৫৫ কিলোমিটার)। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ঘ১ এর সাথে ইন্টারচেঞ্জ ডেভেলপমেন্ট ২.১ কিলোমিটার। নদী শাসন কাজের দৈর্ঘ্য ২.২ কিলোমিটার। টোল প্লাজা একটি এবং ওজন স্টেশন হবে দুইটি। ভার্টিক্যাল ক্লিয়ারেন্স হবে ২৫ মিটার। এই সেতু বাস্তবায়ন হলে জিডিপি প্রবৃদ্বির হার বাড়বে ০.২৩%।

 

চাঁদপুরের মতলব উত্তর ও মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে যে স্বপ্ন বুকে লালন করে আসছিলেন, ধনাগোদা নদীর ওপর সেই দৃষ্টিনন্দন ঝুলন্ত সেতু নির্মাণের কাজ এখন আর স্বপ্ন নয়, বাস্তবায়নের খুব কাছাকাছি। ৪ হাজার ৭৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হতে যাওয়া এই ১.৮৫ কিলোমিটার দীর্ঘ কেবল স্টেইড সেতু হবে দেশের ইতিহাসে প্রথম এমন প্রকল্প, যেখানে নদীর মূল প্রবাহে একটিও পিলার থাকবে না।

সেতুটি নির্মিত হলে, রাজধানীর সাথে চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী ও ভোলার সাথে ঢাকার সরাসরি যাতায়াত সময় অর্ধেকে নেমে আসবে, ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের চাপ কমবে, দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের বাণিজ্য ও পর্যটনে বড় পরিবর্তন আসবে, জমির মূল্য বৃদ্ধি ও নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠবে।

 

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category