• বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৪৬ অপরাহ্ন
Headline
শ্রীনগরে উৎসব মুখর পরিবেশে  বাংলা নববর্ষ উদযাপন মতলব দক্ষিণে প্রশাসনের বর্ণিল আয়োজনে বর্ষবরণ উদযাপিত মতলব উত্তরে উৎসবমুখর বাংলা নববর্ষ উদযাপন  মানুষ যেন সঠিক চিকিৎসা সেবা পায় সে বিষয়ে সবচেয়ে বেশী  গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার… ড.মো.জালাল উদ্দিন এমপি সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বিষয়ে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না  – ড. মুহাম্মদ জালাল উদ্দিন এমপি  মতলব উত্তরে শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করলেন ইউএনও মাহমুদা কুলসুম মনি  শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে কোনো ধরনের অবহেলা বা দুর্নীতি সহ্য করা হবে না—ড.মো.জালাল উদ্দিন এমপি  বিজ্ঞান মনস্ক হওয়ায় সরকারের উচ্চ পর্যায়ে নারীদের গৌরবময় অংশ গ্রহণ বিদ্যমানঃ ইউএনও মাহমুদা কুলসুম মনি  মতলব উত্তরে কালবৈশাখী ঝড়ে তান্ডবে লন্ডভন্ড দৌলতদিয়ায় ফেরিতে ওঠার সময় বাস উল্টে নদীতে

সাকিবের মতো যে ভুলে নিষিদ্ধ হচ্ছেন টেইলর!

admin / ২৯৫ Time View
Update : বুধবার, ২৬ জানুয়ারী, ২০২২

বাংলাদেশের ক্রিকেটে কাল এক দিন হিসেবেই চিহ্নিত করা হয় ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবরকে। সেদিন যে সবাইকে চমকে দিয়ে আইসিসি কর্তৃক সব ধরনের ক্রিকেট থেকে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ হন সাকিব আল হাসান। জুয়াড়ির প্রস্তাব গোপনের কারণে এই শাস্তি পান তিনি।

এবার সাকিবের মতো ঠিক একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে চলেছে জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটপ্রেমীরা। কারণ সাকিবের মতো একই ভুল করেছেন জিম্বাবুয়ের সাবেক অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেইলর। সাকিবের মতো তিনিও জুয়ারিদের প্রস্তাব গোপন রেখেছেন। তাই নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে চলেছেন জিম্বাবুয়ের এ কিংবদন্তি ক্রিকেটার।

সম্প্রতি টুইটারে এই প্রসঙ্গে নিজের বক্তব্য জানিয়েছেন টেইলর। সোমবার নিজের অফিশিয়াল টুইটার একাউন্ট থেকে টুইট করে বিবৃতি দেন তিনি। সেখানে টেইলর যা লিখেছেন তার বঙ্গানুবাদ নিচে উল্লেখ করা হলো-

আমার বন্ধু, পরিবার ও সমর্থকদের উদ্দেশ্যে…

গত দুই বছর ধরে আমি একটা ভার বয়ে চলছিলাম। যেটা আমাকে দুঃখজনকভাবে অন্ধকার জায়গায় নিয়ে গেছে এবং আমার মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব রেখেছে। আমি সেটা কাছের মানুষ, বন্ধু ও সমর্থকদের কাছে বলতে পারছি। আমার মনে হয় শুরুর দিকে আমি লজ্জিত ও ভীত ছিলাম।

এটা হয়তো পড়ার জন্য ভালো কিছু হবে না। কিন্তু আইসিসির উদঘাটন করা একটি বিষয়ে আমাকে বিবৃতি দিতেই হবে। আইসিসিও হয়তো শিগগিরই জানাবে…

২০১৯ সালের অক্টোবরের শেষদিকে, আমাকে ভারতের এক ব্যবসায়ী অনুরোধ করে জিম্বাবুয়েতে একটি টি-২০ টুর্নামেন্ট আয়োজনের স্পন্সরশিপের বিষয়ে তার সঙ্গে আলোচনায় বসতে। আমাকে বলা হয়েছিল ভারতে যাওয়ার জন্য ১৫ হাজার ডলার পাব।

আমি ওই অনুরোধ প্রত্যাখান করতে পারিনি। কারণ আমি চিন্তিত ছিলাম। সময়টাও এমন ছিল যখন জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট বোর্ড ছয় মাস আমাদের বেতন দিতে পারছিল না। এটাও নিশ্চিত ছিলাম না জিম্বাবুয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট চালিয়ে যেতে পারবে কি না। তাই আমি ভারতে যাই। আলোচনাও হয়, আমরা একটা ডিনারে বসি।

সেখানে সে ড্রিংস নিয়ে হাজির হয়। একই সঙ্গে আমাকে কোকেইন খাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়; বোকার মতো আমি সেটা কিছুটা গ্রহণও করে ফেলি। এরপর অনেকবার সেটাতে ফিরে গেছি। আমার পেটে এখনো অসুস্থতা বোধ করি। তারা কীভাবে আমার সঙ্গে ওই রাতে খেলল, সেটা নিয়ে ভাবি।

পরের দিন সকালে ওই একই লোক ঝড়ের মতো আমার হোটেলের ‍রুমে আসে আর একটা ভিডিও দেখায় কোকেইন খাওয়ার। সে আমাকে বলে, যদি আমি আন্তর্জাতিক ম্যাচে তাদের জন্য স্পট ফিক্সিং না করি, তাহলে তারা ভিডিওটা পাব্লিক করে দেবে।

আমি চিন্তিত হয়ে পড়লাম। আমার হোটেল রুমে ছয় জন মানুষ দাঁড়িয়ে ছিল। নিজেকে নিয়েই ভয়ে ছিলাম। আমি তাদের ফাঁদে পা দিলাম। আর ধীরে ধীরে এমন একটা পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে গেলাম যেটা জীবনের তরে ক্যারিয়ারটাকে শেষ করে দিল।

আমাকে ১৫ হাজার ডলার ঠিকই দেওয়া হলো কিন্তু সঙ্গে এটাও বলা হলো যে ফিক্সিংয়ের জন্য এটা একটা ডিপোজিট। যদি কাজটা হয়ে যায়, তাহলে আরও ২০ হাজার ডলার পাব। আমি টাকাটা নিই, যেন প্লেনে উঠে ভারত ছাড়তে পারি। আমার মনে হয়েছিল আর কোনো বিকল্প নেই। কারণ সেখানে ‘না’ বলার মতো অবস্থা ছিল না। আমি তখন কেবল সেখান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথাই ভেবেছি।

যখন আমি বাড়িতে ফিরে আসলাম। যা কিছু হয়েছে সেটা আমার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যতে প্রভাব ফেলল। আমার অবস্থাটা ‘জগাখিচুড়ি’র মতো হয়ে গিয়েছিল। আমার দাদ (দাউদ, এক প্রকার চর্ম রোগ) হয়ে গিয়েছিল এবং অ্যান্টি-সাইকোটিক ওষুধ-অ্যামিট্রিপটাইলাইন খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।

ওই ব্যবসায়ী এসে আমাকে দিয়ে কাজটা করাতে চেয়েছিল যেটা আমি করিনি। আইসিসিকে জানাতে চার মাস সময় লেগে গিয়েছিল। বুঝতে পারছি, এটা অনেক দেরি। কিন্তু আমি ভেবেছি সবাইকে বাঁচাতে পারব, বিশেষত আমার পরিবারকে। আমি নিজের মতো করে আইসিসিকে জানিয়েছি।

আশা করেছিলাম যদি আইসিসিকে ঠিকমতো বোঝাতে পারি যে আমার কতটা দুর্দশা ছিল। আমার নিরাপত্তা ও ভালো থাকার ব্যাপারটা যদি সত্যিকার অর্থে তারা বুঝতে পারে তাহলে হয়তো তারা বুঝবেন কেন আমি দেরি করে জানিয়েছি।

দুর্ভাগ্যবশত তারা সেটা পারেনি। কিন্তু আমি এই বিষয়ে অজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি না। আমি অনেকগুলো দুর্নীতি বিরোধী সভায় অংশ নিয়েছি বছরের পর বছর ধরে। আমরা জানি কখন কীভাবে জানাতে হবে।

আমি এটাও একই সঙ্গে জানাতে চাই, কখনো কোনো ধরনের ম্যাচ ফিক্সিংয়ের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। আমি হয়তো অনেক কিছু করেছি কিন্তু ধোঁকা দিইনি। ক্রিকেটের মতো সুন্দর খেলাটার জন্য আমার ভালোবাসা অনেক বেশি। যেকোনো হুমকিকে পথে ছুড়ে ফেলতে পারি এটার জন্য।

আইসিসিকে জানানোর পর অনেকগুলো সাক্ষাৎকার দিয়েছি। পুরো তদন্তের সময় আমি সৎ ছিলাম। ভেতরে ও বাইরে আমি অনেক যন্ত্রণা পাচ্ছি। এখনো অনেক বিষয়ের জন্য আমার সমর্থন ও পরামর্শ দরকার।

আমাকে বলা হয়েছে, আইসিসি কয়েক বছরের জন্য আমাকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে। আমি এই সিদ্ধান্তকে মেনে নিয়েছি। আশা করছি, আমার গল্পটা পরে অন্য ক্রিকেটারদের আইসিসিকে (এমন বিষয়ে) দ্রুত জানাতে উৎসাহী করবে।

গত দুইটা বছর আমার জন্য ছিল অনেক চ্যালেঞ্জের; ব্যক্তিগত ও পেশা দুই জীবনেই। আমার বানানো এই ‘জগাখিচুড়ি’ পরিস্থিতি থেকে আমি বের হতে চাই এবার। আমার পরিবার ও বন্ধুরা আমাকে যেমন অবিশ্বাস্য সমর্থন দিয়েছেন। সেটা আমাকে নতুন করে উপলব্ধি করিয়েছে, আমি এমন একটা সমস্যা তৈরি করেছি যেটা আরও আগে সমাধান করা দরকার ছিল।

আপনাদের এটাও জানাতে চাই, এই ২৫ জানুয়ারি আমি একটা রিহ্যাভ সেন্টারে আসছি নিজেকে শুদ্ধ করতে এবং জীবনের সঠিক পথে ফিরে আসতে। আমাকে এখন নিজের গল্পটা শোনাতে হবে। কারণ আমি জানি, তারা আমার গল্প শুনতে চাইবে। তবে কয়েক সপ্তাহের জন্য আমি বাইরে চলে যাচ্ছি এবং ভালো হতে চাচ্ছি।

আমার নিজের প্রতি নিজের ঘৃণা জন্মেছে। পরিবারের জন্য নিজেকে শুদ্ধ করতে চাই। নিজের ভেতর এমন একটা পদার্থ ঢুকিয়েছি, যেটা আমাকে নিয়ন্ত্রণ করছে এবং আমার স্বপ্নকে দুর্বল করে দিচ্ছে। আমার নৈতিকতা ও সম্মানকেও; যেটাকে আমি অনেক গুরুত্ব দিই।

আমি এটাও আশা করি, আমার গল্প যারা শুনেছে, তাদের এটা অনুপ্রাণিত করবে যেখানে যেখানে সাহায্য দরকার ওইসব ক্ষেত্রে। আমি বুঝতে পারিনি, সামনে এগিয়ে আসা এবং কথা বলা আমাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেবে যেখানে আমি কয়েক বছর ধরে আছি। শেষে এসে বলতে চাই, যাদের দুঃখ দিয়েছি তাদের কাছে ক্ষমা চাই।

আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই পরিবার, বন্ধু ও সমর্থকদের সবসময় আমার পাশে থাকার জন্য। আমি বুঝতে পেরেছি সততার মানেটা কী। সবচেয়ে বড় সম্মান হচ্ছে দেশের অধিনায়কত্ব করা এবং খেলতে পারা। এটার জন্য আমি অনেক বেশি কৃতজ্ঞ।

এটার জন্যও কৃতজ্ঞ, এই অভিজ্ঞতা আমাকে যা শিখিয়েছে। আমার চারটি সন্তান, ভালোবাসার স্ত্রী, আমার স্বাস্থ্য এবং এখন নিজের যে ভালো ভার্শনটা হতে চাচ্ছি, সেটার জন্যও কৃতজ্ঞতা।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন টেইলর। প্রায় ১৭ বছরের ক্যারিয়ার ছিল তার, ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়ের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category