• রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৪ পূর্বাহ্ন
Headline
মতলবের মেঘনায় লঞ্চ থেকে পড়ে নিখোঁজ রবিনের লাশ ২৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার ফ্রি হার্ট ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা নিলেন কুমিল্লায় কর্মরত সাংবাদিকরা কুমিল্লার লালমাই পাহাড়চূড়ায় স্বামী আত্মানন্দ গিরি মহারাজের ৮ম তিরোধান স্মরণানুষ্ঠান মতলবের মেঘনা নদীতে লঞ্চ থেকে পড়ে যুবক নিখোঁজ, লঞ্চসহ দুই জন আটক মতলব উত্তরে পুকুরের পানিতে ডুবে ৫ বছরের শিশুর মৃত্যু বৃষ্টিতে বেহাল মতলব উত্তরের সরদারকান্দি-ছোটহলদিয়া গুরুত্বপূর্ণ সড়ক কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সহকারী সমিতির শপথ গ্রহণ ও চার্জ বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ত্রিশালে ২ কোটি ২৬ লাখ টাকায় নির্মিত সড়কে নিম্নমানের কার্পেটিংয়ের অভিযোগ মতলব উত্তরে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘন্টার পর সিয়ামের মৃত্যু  ত্রিশালের ২৩৬ জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা

ধর্মীয় আলোচনা ও মহাপ্রসাদ বিতরণ

কুমিল্লার লালমাই পাহাড়চূড়ায় স্বামী আত্মানন্দ গিরি মহারাজের ৮ম তিরোধান স্মরণানুষ্ঠান

Lovelu / ৪৩ Time View
Update : শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

তাপস চন্দ্র সরকার।।

কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী লালমাই পাহাড়চূড়ায় অবস্থিত শ্রী শ্রী চণ্ডীমূড়া মন্দিরে গভীর ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, শ্রদ্ধা ও আধ্যাত্মিক আবহের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে মন্দিরের সেবাইত পরম শ্রদ্ধেয় স্বামী আত্মানন্দ গিরি মহারাজের ৮ম তিরোধান স্মরণানুষ্ঠান।

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর দিনব্যাপী আয়োজিত এ ধর্মীয় অনুষ্ঠানে কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত সনাতন ধর্মাবলম্বী শত শত ভক্ত-শ্রোতার উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে লালমাই পাহাড়ের পবিত্র চণ্ডীমূড়া মন্দির প্রাঙ্গণ। প্রিয় মহারাজের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন, তাঁর আধ্যাত্মিক জীবন ও মানবকল্যাণমূলক আদর্শকে স্মরণ এবং সনাতন ধর্মীয় চেতনা ও মূল্যবোধকে আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয়ে এ স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সকাল থেকেই দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তদের আগমনে চণ্ডীমূড়া মন্দির প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় এক পবিত্র ও উৎসবমুখর পরিবেশ। অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল শ্রী শ্রী চণ্ডী মায়ের পূজার্চনা। ভক্তরা মায়ের চরণে পুষ্পাঞ্জলি ও শ্রদ্ধা নিবেদন করে নিজেদের এবং পরিবারের মঙ্গল, শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন। মন্দিরের পূজার্চনা, মন্ত্রোচ্চারণ ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে পাহাড়চূড়াজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এক অপার্থিব আধ্যাত্মিক আবহ। ভক্তদের অনেকেই প্রিয় মহারাজের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। স্মরণানুষ্ঠানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন ছিল পবিত্র গীতা যজ্ঞ। যজ্ঞের পবিত্র অগ্নিশিখা, মন্ত্রোচ্চারণ এবং গীতার বাণীতে মন্দির প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় গভীর আধ্যাত্মিক পরিবেশ। যজ্ঞে পুরোহিত্য করেন মহাতীর্থ চণ্ডীমূড়া সেবাশ্রমের অধ্যক্ষ দূর্লভ দাস। পবিত্র যজ্ঞে গীতা পাঠ করেন তাপস দাস।

যজ্ঞের মাধ্যমে বিশ্বশান্তি, মানুষের মঙ্গল, সমাজে শান্তি-সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা এবং সকলের কল্যাণ কামনা করা হয়। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি ভক্তদের মাঝে গীতার জীবনমুখী শিক্ষা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের তাৎপর্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানের ধর্মীয় আলোচনা পর্বে সনাতন ধর্মের বিভিন্ন দিক, মানবজীবনে ধর্মীয় মূল্যবোধের গুরুত্ব, নৈতিকতা, মানবিকতা এবং আধ্যাত্মিক চেতনার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

এ সময় শ্রীমৎ স্বামী আত্মানন্দ গিরি মহারাজের শিষ্য ও সহচর, বীর মুক্তিযোদ্ধা রাখাল চন্দ্র ভৌমিক এবং শ্রী শ্রী চণ্ডীমূড়া সেবাশ্রমের সেবাইত ডা. চন্দনা রাউত (চন্দনা দাস) মহারাজের জীবন, সাধনা, ধর্মীয় আদর্শ ও স্মৃতিচারণ করেন। বক্তারা স্বামী আত্মানন্দ গিরি মহারাজের আধ্যাত্মিক জীবন ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন দিক স্মরণ করেন।

তাঁরা বলেন, একজন সাধকের শারীরিক উপস্থিতি সময়ের সঙ্গে শেষ হলেও তাঁর আদর্শ, শিক্ষা ও কর্ম মানুষের হৃদয়ে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকে। স্বামী আত্মানন্দ গিরি মহারাজের স্মরণানুষ্ঠান তাই শুধু একজন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বকে স্মরণ করার আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং তাঁর রেখে যাওয়া মানবিকতা, ভক্তি, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও আধ্যাত্মিক চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ারও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস।

ধর্মীয় আলোচনা ও স্মৃতিচারণের সময় মন্দির প্রাঙ্গণে উপস্থিত ভক্তদের মধ্যে গভীর আবেগের সৃষ্টি হয়। অনেকেই স্মরণ করেন মহারাজের সান্নিধ্যে কাটানো বিভিন্ন সময় এবং তাঁর স্নেহ, উপদেশ ও ধর্মীয় অনুপ্রেরণার কথা। দিনব্যাপী এ আয়োজনকে ঘিরে লালমাই পাহাড়ের চণ্ডীমূড়া মন্দির প্রাঙ্গণ পরিণত হয় ভক্তি, শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতির মিলনমেলায়। ধর্মীয় আলোচনা, পূজার্চনা ও যজ্ঞে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি ভক্তরা একে অপরের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে মিলিত হন।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ধর্মীয় অনুষ্ঠান মানুষের মধ্যে শুধু আধ্যাত্মিক চেতনার বিকাশ ঘটায় না, পারস্পরিক ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ববোধ, মানবিকতা ও সম্প্রীতির বন্ধনও দৃঢ় করে। স্বামী আত্মানন্দ গিরি মহারাজের স্মরণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানও সেই চেতনাকে ধারণ করেছে। লালমাই পাহাড়ের নৈসর্গিক পরিবেশ, মন্দিরের পবিত্রতা এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের সমন্বয়ে পুরো আয়োজনটি ভক্তদের কাছে হয়ে ওঠে এক স্মরণীয় দিন। দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভক্তদের অনেকেই জানান, চণ্ডীমূড়ার পবিত্র পরিবেশে এসে পূজা, যজ্ঞ ও ধর্মীয় আলোচনায় অংশ নিয়ে তাঁরা এক ধরনের মানসিক প্রশান্তি অনুভব করেছেন।

ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুপুরে আগত ভক্ত, শ্রোতা ও অতিথিদের মাঝে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়। মহাপ্রসাদ গ্রহণকে কেন্দ্র করে মন্দির প্রাঙ্গণে তৈরি হয় এক আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ। একই সারিতে বসে ভক্তদের মহাপ্রসাদ গ্রহণের দৃশ্য যেন ধর্মীয় সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধের এক অনন্য প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে। ভক্তি ও মানবিকতার বন্ধনে একত্রিত হয়ে সবাই প্রিয় মহারাজের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

ওই স্মরণানুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা ত্রিশূল গীতা শিক্ষালয়ের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ড. বিশ্বজিৎ দেব, অ্যাডভোকেট স্বর্ণকমল নন্দী পলাশ, অ্যাডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকার ও তাঁর পরিবারবর্গ, জাগো হিন্দু পরিষদ কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি সাগর দাশ, হিন্দু যুব মহাজোটের অসীম বর্দ্ধন অপু, অমর সূত্রধরসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এছাড়াও কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত সনাতন ধর্মাবলম্বী শত শত ভক্ত-শ্রোতা দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

ভক্তদের উপস্থিতি ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে চণ্ডীমূড়া মন্দির প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। কারও হাতে পূজার সামগ্রী, কারও কণ্ঠে ভক্তিগীতি, কোথাও গীতার বাণী, আবার কোথাও প্রিয় মহারাজের স্মৃতিচারণ সব মিলিয়ে পাহাড়চূড়ার পরিবেশে তৈরি হয় এক গভীর ধর্মীয় আবহ। স্বামী আত্মানন্দ গিরি মহারাজের ৮ম তিরোধান স্মরণানুষ্ঠান ছিল মূলত স্মৃতি, শ্রদ্ধা ও আধ্যাত্মিকতার এক আবেগঘন সমাবেশ। প্রিয় সাধকের স্মৃতিকে ঘিরে ভক্তদের অনুভূতিতে বারবার উঠে আসে তাঁর স্নেহ, ধর্মীয় শিক্ষা ও আধ্যাত্মিক অনুপ্রেরণার কথা।

আয়োজকদের মতে, তিরোধান স্মরণানুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মহারাজের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি তাঁর আদর্শকে অনুসরণ করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করা হয়। ধর্মীয় মূল্যবোধ, মানবিকতা, পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার যে বার্তা তাঁর জীবন থেকে পাওয়া যায়, তা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এ ধরনের আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। লালমাই পাহাড়ের পবিত্র চূড়ায় শ্রী শ্রী চণ্ডীমূড়া মায়ের সান্নিধ্যে আয়োজিত এ স্মরণানুষ্ঠান তাই কেবল একটি আনুষ্ঠানিক ধর্মীয় আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। এটি হয়ে উঠেছিল প্রিয় এক সাধকের স্মৃতির প্রতি অশ্রুসিক্ত শ্রদ্ধা, ভক্তির নিবেদন এবং ধর্মীয় চেতনায় একত্রিত হওয়ার এক অনন্য উপলক্ষ।

দিন শেষে মহাপ্রসাদ গ্রহণের পর ভক্তরা যখন মন্দির প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন, তখন তাঁদের হৃদয়ে ছিল প্রিয় মহারাজের স্মৃতি এবং তাঁর আদর্শকে ধারণ করার প্রত্যয়। লালমাই পাহাড়ের পবিত্র বাতাসে যেন প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল ভক্তদের প্রার্থনা স্বামী আত্মানন্দ গিরি মহারাজের স্মৃতি ও আদর্শ মানুষের হৃদয়ে চিরজাগরুক থাকুক; ধর্ম, মানবিকতা, শান্তি ও সম্প্রীতির পথ আরও সুদৃঢ় হোক। এভাবেই গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আধ্যাত্মিক আবহের মধ্য দিয়ে শেষ হয় স্বামী আত্মানন্দ গিরি মহারাজের ৮ম তিরোধান স্মরণানুষ্ঠান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category