আব্দুল মান্নান সিদ্দিকী:
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার বীরতারা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ হতে ৯ই মার্চ রবিবার সাতগাঁও বাজার কে.সি রোড জামে মসজিদে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
বীরতারা ইউনিয়ন সেক্রেটারি মো: আব্বাস আলী লস্কর এর সঞ্চালনায় বীরতারা ইউনিয়ন জামায়াতে আমির মাওলানা মুফতি মো: সাইদুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সেক্রেটারি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মুন্সীগঞ্জ অধ্যাপক এ.কে.এম ফখরুদ্দিন রাজি, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, শিক্ষক নেতা মুহা: জাহাঙ্গীর আলম খান, আমির শ্রীনগর উপজেলা টি.এম বেলাল হুসাইন।
আরো উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সেক্রেটারি নূর জামান মীর, উপজেলা নায়েবে আমির ওমর ফারুক মোল্লা, বীরতারা ইউনিয়ন এর নায়েবে আমির মো: জাকির লস্কর, আমির হাঁসাড়া ইউনিয়ন মাওলানা নুরুদ্দিন আলম, আমির তন্তর ইউনিয়ন আব্দুস সালাম, বীরতারা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান গাজী শহিদুল্লাহ কামাল ঝিল্লু।
এ. কে.এম ফখরুদ্দিন রাজি বলেন রাতের নির্বাচন আর চাই না একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে আমরা যেতে চাই! বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত জরুরি, যাতে বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে সহনশীলতা ও পারস্পরিক স্মপ্রীতি বজায় থাকে। প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ৯০-এর দশকের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে জামায়াত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
জামায়াত অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার প্রস্তাব দেয় এবং এর পক্ষে জনমত তৈরি করেছে। কিন্তু গত ১৫ বছরের আওয়ামী লীগ সরকার জামায়াতকে দমন করার সব ধরনের অপচেষ্টা চালিয়েছে। জামায়াতের পাঁচজন শীর্ষ নেতাকে ফাঁসি দিয়েছে। ছয়জন নেতাকে কারাগারে বা পুলিশের হেফাজতে নির্মমভাবে হত্যা করাসহ হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে, অনেকে গুমের শিকার হয়েছেন এবং অনেকেই স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে গেছেন।
এই নিষ্ঠুরতা সত্ত্বেও জামায়াতে ইসলামী এবং এর ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির জুলাই বিপ্লবে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছে।
বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোর নিরাপত্তা এবং সাধারণ মানুষের জানমালের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংগঠনের নেতা-কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
উপজেলা সেক্রেটারি নূর জামান মীর বলেন আমরা মনে করি, একটি সুষ্ঠু রাজনৈতিক ব্যবস্থা টেকসই শান্তি ও উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। আমাদের দায়িত্ব হলো প্রত্যেক নাগরিকের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া, প্রতিটি সম্পপ্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা এবং দেশ গঠনে সবাইকে সমান সুযোগ দেওয়া। জামায়াতে ইসলামী দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, বাংলাদেশে সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু বলে কিছু নেই। এদেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে।
বীরতারা ইউনিয়ন জামায়াতে আমির মাওলানা মুফতি মো: সাইদুল ইসলাম বলেন আপনাদের ইফতার পার্টিতে উপস্থিত হওয়ার জন্য আমি আপনাদের প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আপনাদের এই ইফতার পার্টিতে অংশগ্রহণে আমরা উৎসাহিত হয়েছি। আসুন, আমরা আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করি এবং সারা বিশ্বে শান্তি, ন্যায়বিচার ও সাম্য প্রতিষ্ঠা করি। এই পবিত্র রমজান মাস আমাদের সবার জন্য বরকতময় হোক। আল্লাহ আপনাদের সবাইকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।”