• শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৪০ অপরাহ্ন
Headline
গম্বুজ-মিনারে মোগল স্থাপত্য, চার শতক ধরে দাঁড়িয়ে সেকান্দরনগর মসজিদ কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ভারতীয় সীমান্ত থেকে অর্ধকোটি টাকার অবৈধ চোরাচালানী মালামাল জব্দ শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলা শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজ করেঃ সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বেনাপোলে লোহাবোঝাই ভ্যান ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে মাদ্রাসা শিক্ষক নিহত, আহত ২ জন চাঁদপুরে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে মাদ্রাসাছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু মতলব উত্তরে ছাত্রদলের বৃক্ষরোপণ ও কলেজ ক্যাম্পাসে ডাস্টবিন প্রদান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কুমিল্লা ছাতিপট্টি নৃসিংহ মন্দিরে তিন দিনব্যাপী হরিকথা মহোৎসব শুরু কুমিল্লা ছাতিপট্টির নৃসিংহ বিগ্রহ মন্দিরে অফিস কক্ষের শুভ উদ্বোধন বাবার স্বপ্ন পূরণ করেছেন, কিন্তু সেই সুখের মুহূর্ত দেখাতে পারেননি বাবাকে

হারিয়ে যাচ্ছে জল-কাদায় মাছ ধরার উৎসব

Lovelu / ৮৮৬ Time View
Update : রবিবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২২

মো:সৈকত জামান(প্রিন্স):

এক সময় গ্রাম বাংলায় বর্ষা শেষে নিচু জমি খাল-বিলে পানি সেচে মাছ ধরা হতো। মাছ ধরার চিরায়ত সে দৃশ্য সচরাচর এখন আর চোখে পড়েনা।

ভাদ্র মাসের তীব্র গরম আর প্রখর রোদের তেজে নদ-নদীর পানি কমে যাবার সাথে সাথে শুকিয়ে যেতে থাকে ডুবে থাকা খেতখলা। পানি শুকিয়ে গেলেও এসব স্থানে আটকা পড়ে নানা দেশীয় মাছ। আর সে সময় কাদা পানিতে নেমে হাত দিয়ে মাছ শিকার করে গ্রামের মানুষ।

প্রখর রোদে হাঁটু কাদা পানিতে মাছ ধরা গ্রাম বাংলার অন্যতম বিনোদনও বটে। শত শত বছর ধরে এ ধারা চলে আসছে, যা আজও বহমান।

নদী বেষ্টিত টাঙ্গাইল জেলার চারদিকে রয়েছে যমুনা-ধলেশ্বরীসহ একাধিক নদী। কালের বিবর্তনে এসকল নদীর আয়তন অনেকটাই ছোট হয়ে আসছে। তারপরও বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে টইটম্বুর হয়ে উঠে এসকল নদী। শুধু নদী নয়, পানি বৃদ্ধি পায় পুকুর-ডোবা আর খাল-বিলের। ডুবে যায় ধানী খেত আর নিচু জমি। পানির সাথে সেই জমিতে দেশি জাতের নানা মাছের আগমন ঘটে।

একসময় খাল-বিল, পুকুর-ডোবা আর ক্ষেত-খলা শুকিয়ে এলে থালা-বাটি দিয়ে চলে সামান্য পানি সেচার কাজ। আর পুকুর-ডোবার পানি সেচা হয় পাম্প মেশিন দিয়ে। এরপর চলে মাছ ধরার উৎসব। রীতিমতো আনন্দ উল্লাস করে লোকজন পুকুর-ডোবা, খাল-বিলের শূন্য পানির কাদার ভিতরে হাত ঢুকিয়ে তুলে আনে একের পর এক মাছ। সেচ দেয়া পুকুরে চাষ করা মাছের পাশাপাশি পাওয়া যায় দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন মাছ। আর ডোবায় মেলে শোল, টাকি, পুঁটি, খলসে, কৈ, মাগুর, সিং, ট্যাংরাসহ দেশি প্রজাতির বিভিন্ন মাছ।

কাদায় মাছ ধরার এমনই এক উৎসবের দেখা মিলল টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চরাঞ্চল মাহমুদনগরে। মঙ্গলবার সকালে টাঙ্গাইল-মাহমুদনগর সড়কের পাশের এক ধানী খেতে দেখা পাওয়া যায় এমন আয়োজনের।

স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছর বর্ষাকাল শেষ হলে পানি কমে গেলে এই এলাকার নিচু জমিগুলোতে এমন মাছ ধরার উৎসব চলে। সেই উৎসবে মাছ ধরায় মেতে উঠে নারী-পুরুষ, ছেলে-বুড়ো সবাই। কাদা পানিতে নেমে কে কতো বেশি মাছ ধরতে পারে, এই নিয়ে চলে অলিখিত প্রতিযোগীতা।

তারা জানান, আগে এমন করে নানা জাতের দেশীয় মাছ প্রচুর ধরা গেলেও, এখন আর সেদিন নেই। নেই মাছের সে প্রাচুর্য। প্রতিনিয়ত মাছের অভয়ারণ্য কমে যাওয়ায় আগের মতো জমে ওঠেনা মাছ ধরার উৎসব। দেশীয় মাছের উৎসগুলো ক্রমেই যেন হারিয়ে যাচ্ছে।

আক্ষেপ করে একজন প্রবীণ বললেন, ‘খালবিল থেকে দিন শেষে মাছ নিয়ে বাড়ি ফেরার দৃশ্য এখন তেমন চোখে পড়েনা। আবার পাঁচ মিশালী মাছের রান্নার ঘ্রাণও এ মৌসুমে এখন আর আগের মতো ছড়িয়ে পড়েনা গ্রামের বাড়ি বাড়ি।’

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category