• রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৯ পূর্বাহ্ন
Headline
মতলবের মেঘনায় লঞ্চ থেকে পড়ে নিখোঁজ রবিনের লাশ ২৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার ফ্রি হার্ট ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা নিলেন কুমিল্লায় কর্মরত সাংবাদিকরা কুমিল্লার লালমাই পাহাড়চূড়ায় স্বামী আত্মানন্দ গিরি মহারাজের ৮ম তিরোধান স্মরণানুষ্ঠান মতলবের মেঘনা নদীতে লঞ্চ থেকে পড়ে যুবক নিখোঁজ, লঞ্চসহ দুই জন আটক মতলব উত্তরে পুকুরের পানিতে ডুবে ৫ বছরের শিশুর মৃত্যু বৃষ্টিতে বেহাল মতলব উত্তরের সরদারকান্দি-ছোটহলদিয়া গুরুত্বপূর্ণ সড়ক কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সহকারী সমিতির শপথ গ্রহণ ও চার্জ বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ত্রিশালে ২ কোটি ২৬ লাখ টাকায় নির্মিত সড়কে নিম্নমানের কার্পেটিংয়ের অভিযোগ মতলব উত্তরে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘন্টার পর সিয়ামের মৃত্যু  ত্রিশালের ২৩৬ জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা

পেরেক ঠোকে সাটানো হচ্ছে ব্যানার ফেস্টুন আইনের প্রয়োগ না থাকায় গাছের সাথে নিস্টুরতা

Lovelu / ১৬৬ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৩ জুন, ২০২৩

শহিদুল ইসলাম খোকন:

গাছ মানুষের পরম বন্ধু। গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে ও আর্থিকভাবে উপকার করে। কিন্তু সেই গাছের সঙ্গেই করা হচ্ছে নিষ্ঠুর আচরণ। জীবন্ত গাছে পেরেক মেরে সাটানো হচ্ছে ব্যানার ফেস্টুন।

এরকমই প্রতিযোগিতা দৃশ্যায়িত হচ্ছে মতলব উত্তর উপজেলার সর্বত্র। হাট-বাজার, রাস্তা মোরসহ সর্বত্র একই অবস্থা। ছেংগারচর পৌরসভার নির্বাচন উপলক্ষে পৌর এলায় এ দৃশ্য বেশি। সম্প্রতি মোহনপুর ও ইসলামাবাদ ইউপির উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষেও ব্যানার ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে এ এলাকা। উপ-নির্বচন নির্বাচন শেষ হলেও এগুলো নামানো হচ্ছে না।

উপজেলার সবকয়টি সড়কে পাশের গাছে গাছে ঝুলছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, চিকিৎসক ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের প্রচার-প্রচারণার অসংখ্য সাইনবোর্ড-ব্যানার ও ফেস্টুন। এগুলো ঝোলানো হয়েছে পেরেক ঠুকে। একেকটি গাছ যেন একেকটি বিজ্ঞাপন বোর্ড। এভাবে গাছে পেরেক ঠোকা হচ্ছে, অথচ তা দেখার কেউ নেই। এমনভাবে ছেয়ে গেছে যে কোনটা কোন গাছ, তা চেনার উপায় থাকে না।

পরিবেশবিদদের মতে, পেরেক লাগানোর কারণে গাছের গায়ে যে ছিদ্র হয়, তা দিয়ে পানি ও বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া ও অণুজীব ঢোকে। এতে গাছের ওই জায়গায় দ্রুত পচন ধরে। ফলে তার খাদ্য ও পানি শোষণপ্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। এতে গাছ মারাও যেতে পারে। তাই গাছে পেরেক ঠোকা গাছের জন্য চরম ক্ষতি।

যেখানে বেশি করে গাছ লাগানো এবং পরিচর্যা করা প্রয়োজন, সেখানে আমরাই উল্টো গাছের ক্ষতি করে চলেছি। এভাবে গাছে পেরেক ঠুকে সাইনবোর্ড না লাগানোর বিষয়ে ২০০২ সালের ৭ জুলাই জাতীয় সংসদে একটি আইন পাস হয়। কিন্তু শুধু কাগজপত্রেই আইনটি আছে। বাস্তবে এর কোনো প্রয়োগ নেই। এই আইনটি সম্পর্কে সবাইকে জানাতে হবে এবং এর প্রয়োগ ঘটাতে হবে। গাছ রক্ষায় প্রয়োজনে আরও কঠোর আইন প্রণয়ন করতে হবে। না হলে গাছের গায়ে পেরেক ঠোকা কখনোই বন্ধ হবে না।

গাছে পেরেক ঠুকে সাইনবোর্ড না লাগানোর বিষয়ে ২০০২ সালে জাতীয় সংসদে একটি আইন পাস হয়। কিন্তু শুধু কাগজপত্রেই আইনটি আছে। বাস্তবে এর কোনো প্রয়োগ নেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পদক্ষেপ না নেয়ায় গাছের ওপর মানুষের অত্যাচার থামছে না দাবি নাগরিক সমাজের। তাই জনসচেতনতা তৈরি পাশাপাশি গাছ রক্ষার প্রয়োজনে এই আইনটি দ্রুত কার্যকর করার দাবি তাদের।

কালীপুর বাজার বনিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম বলেন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক দলের প্রচারণাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য গাছ ব্যবহার করা বন্ধ করতে হবে। কোনোভাবেই পেরেক ঠোকা চলবে না।

মতলব উত্তর প্রেসক্লাবের বর্তমান সভাপতি বোরহান উদ্দিন ডালিম বলেন, এসব বিষয়ে প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ানো প্রয়োজন।

পরিবেশ বান্দব শামসুজ্জামান ডলার বলেন, গাছে পেরেক মেরে বিজ্ঞাপন টাঙানো বন্ধ করতে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এর উদ্যোগে স্থানীয়ভাবে জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে।

মতলব উত্তর প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাহবুব আলম লাভলু  বলেন, গাছে পেরেক ঠুকে সাইনবোর্ড না লাগানোর আইনটি সম্পর্কে সবাইকে জানাতে হবে এবং এর প্রয়োগ ঘটাতে হবে। গাছ রক্ষায় প্রয়োজনে আরও কঠোর আইন প্রণয়ন করতে হবে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category