সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :
একটা গরুর অভাবে জরাজীর্ণ টিনের ছাপড়া ঘরে বুকে জোঁয়াল ঠেকিয়ে নিজেরাই টানছেন তেলের ঘানি। বিকেল পেরিয়ে আসছে তবুও চলছে প্যারপ্যারানি ঘানির শব্দ।
কাঠের বিভিন্ন সরঞ্জাম দিয়ে তৈরি, পেটের তাগিদে যন্ত্রটি স্বামী-স্ত্রী মিলে কুকে জোঁয়াল ঠেকিয়ে ঘানির চারদিকে নির্বিকারভাবে অনবরত ঘুরে চলছেন তারা। আর সরিষা থেকে ফোঁটায় ফোঁটায় নিংড়ানো খাঁটি তেল জমা হচ্ছে পাতিলে।
সোমবার বিকেলে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জের ৮ নং পাঙ্গাসী ইউনিয়নের শ্রীদাসগাতী গ্রামের হতদরিদ্র আবুল কালাম প্রামাণিক ও তার সহধর্মিনী আসমা বেগমের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় এমন চিত্র।
একটা গরুর অভাবে এভাবে তেলের ঘানি টেনে জীবিকা নির্বাহ করছেন আবুল কালাম পরিবার।ভুক্তভোগী আবুল কালাম বলেন, এ কাজের সঙ্গে প্রায় ৩০ বছর সময় ধরে জড়িত। একটা গরুর অভাবে স্ত্রী আসমা বেগমকে সঙ্গে নিয়ে গরুর কাজ করে যাচ্ছেন।
তিনি আরো বলেন, সারাদিন ঘানি টেনে ১২ কেজি সরিষায় মাত্র সারে তিন কেজি থেকে পৌনে চার কেজি তেল পাওয়া যায়। সেই তেল গ্রামগঞ্জের হাট-বাজারে বিক্রি করে যা পায়, তাই দিয়ে সংসার চলে তাদের।
আসমা বেগম বলেন, বিয়ের পর থেকেই কাঁঠের ঘানি টানছেন তিনি। এ কাজটি করতে খুবই কস্ট হচ্ছে বলে জানান আবুল কালামের স্ত্রী আসমা বেগম। প্রতিবেশিরা জানান, আমরা প্রায়ই ফেসবুকে দেখি, অসহায় ব্যক্তিদের বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে।
তাদের এমন মহৎ কাজগুলো দেখে সত্যিই মন ভরে যায়। আমরা প্রতিবেশী হিসেবে এই অসহায় দম্পতির ঘানি টানার জন্য বিত্তবানদের কাছে একটা গরুর অনুরোধ করছি।
এমতাবস্হায় দেশের বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, দানশীল ব্যক্তি ও বিত্তবানদের নিকট সহায়তা চেয়েছেন উপজেলার শ্রীদাসগাতী গ্রামের অসহায় দম্পতি কালাম পরিবার।