আবদুস সালামঃ
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনায় বর্বরোচিত হামলার শিকার হয়েছেন রুমা (২০) নামে এক মানসিক প্রতিবন্ধী । হামলার শিকার ওই প্রতিবন্ধী উপজেলার ১৫ নং রূপসা উত্তর ইউনিয়নের ভাটেরহদ গ্রামের কোত্তাল বাড়ীর বাচ্চু মিয়ার মেয়ে।
হামলার সময় মেয়েকে বাচাঁতে এসে আহত হয়েছেন ভুক্তভোগীর মা সহ আরো কয়েকজন। এই ঘটনায় থানায় সোমবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় হামলার শিকার প্রতিবন্ধী মেয়েটির মা শাহানারা বেগম বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়ে বিচার প্রার্থনা করেছেন।
হামলার শিকার মানসিক প্রতিবন্ধী রুমা জন্ম হতেই অসুস্থ্য। অসহায় পরিবারের সামর্থ অনুযায়ী যতটুকু সম্ভব দেশের বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে মেয়েকে সুস্থ্য করার চেষ্টা করেছেন। ডাক্তারদের চিকিৎসা ও পরামশ্যে মেয়েটি কিছুদিন ভালো থাকলেও ফের অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। এভাবে কখনো খোলা আকাশের নিছে আবার কখনো বসতঘরে শিকলে বাঁধাবস্থায় মানবেতরভাবে চলতে থাকে তার জীবন।
অভিযোগে দেয়া তথ্য ও স্থানীয়দের থেকে প্রাপ্ত সূত্রে জানা যায়, মেয়েটির বাবা বাচ্চু মিয়া স্থানীয় জনতা বাজারে ক্ষুদ্র একটি ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। মেয়েটির চিকিৎসা ব্যায় ও স্বামীর সংসারে যোগান তাঁর মা শাহানারা বেগমও স্থানীয় একটি স্কুলে পরিচ্ছন্নকর্মী হিসেবে কাজ করে আসছেন। মেয়েটির মা স্কুলে যাওয়ার সময় তাঁকে শিকলে বেঁেধ রেখে যান, আবার স্কুল থেকে ফিরে এসে ছোট ভাইকে সাথে দিয়ে বোনকে মুক্তকরে দেন। প্রতিদিনের ন্যায় শনিবার বিকেলেও তাঁকে শিকল থেকে সাময়িক সময়ের জন্য মুক্ত করেদেন। এসময় তাদের একই বাড়ির বাসিন্দা হালিমা বেগম (২৮) কে থুথু মারে। এই থুথুকে কেন্দ্র করে হালিমা বেগম ও তার ভাই মো. পরান(১৯)সহ পরিবারের লোকজন মানসিক এই প্রতিবন্ধী মেয়েটির ওপর হামলে পড়ে গুরুতর আহত করে। ঘটনার প্রত্যক্ষ স্বাক্ষীরা ভুক্তভোগীকে বাচাঁতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে তাঁরাও হামলার আঘাতপ্রাপ্ত হন। এসময় ডাকচিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে এসে তাঁর মা শাহানার বেগমও হামলার শিকার হন। দিশেহারা হয়ে নিজেদের নবনির্মিত বসতঘরটিতে ঢুকে ধরজা বন্ধ করে রাখলেও ধারালো দেশীয় অস্ত্রদিয়ে হামলা করে ভুক্তভোগীদের বসতঘরের বেড়া ভেঙ্গে দেয় অভিযুক্তরা।
এঘটনায় স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে, থুথু মারাকে কেন্দ্র করে এই অসুস্থ্য মেয়েটিকে এভাবে মারলো বিষয়টি দুঃখজনক।
অভিযুক্ত হালিমা বেগমদের সাথে কথা হলে তারা বলেন, হালিমার ২ বছরের মেয়ে জান্নাত আক্তাররে রুমা মেরেছে, তাই এ ঘটনা ঘটেছে, তাদের বসতঘরে হামলা করেছেন কেন এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমাকে মেরেছে শুনে আমার ভাই পরান ঠিক থাকতে পারেনি। তাই এমনটা ঘটেছে। এসময় তারাও হামলার শিকার হয়েছেন বলে দাবী করেছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন রতন বলেন, ঘটনাটি আমি জেনেছি, সতত্যাও পেয়েছি স্থানীয়দের থেকে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নিতে প্রয়োজনীয় সহযোগীতা করবো।
ফরিদগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ শহীদ হোসেন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।