নিজস্ব প্রতিবেদক।
সকালের নির্মল বাতাস। চারপাশে ঐতিহাসিক ধর্মসাগরের শান্ত জলরাশি। পাখির কলকাকলি আর শরীরচর্চার ছন্দে মুখরিত হয়ে ওঠে কুমিল্লার ধর্মসাগর পাড়। কেউ হাঁটছেন, কেউ দৌড়াচ্ছেন, কেউ করছেন নিয়মিত ব্যায়াম। আবার কেউ কেউ সংগীতের সুরে ভরিয়ে তুলছেন সকালের নান্দনিক পরিবেশ। সুস্থ শরীর ও সুন্দর মনের প্রত্যাশায় প্রতিদিনের এই প্রাণবন্ত আয়োজন যেন নগরজীবনের এক প্রশান্তির ঠিকানা।
এই ব্যস্ততা ও কর্মচঞ্চলতার মাঝেই নিয়মিত ব্যায়াম এবং সংগীত পরিবেশন শেষে গরমে তৃষ্ণা মেটাতে ডাবের পানিতে প্রশান্তি খুঁজে নেন ‘সুপ্রভাত ধর্মসাগর পাড় মঞ্চ’-এর সদস্যরা। প্রতিদিনই থাকে ভিন্ন ভিন্ন নাস্তার আয়োজন। কখনো হালকা নাস্তা, কখনো দেশীয় কোনো খাবার—আড্ডা, হাসি-আনন্দ আর পারস্পরিক সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়ে শেষ হয় তাদের সকালের শরীরচর্চার পর্ব।
সোমবার সকালেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। ব্যায়াম ও সংগীত পরিবেশন শেষে তৃষ্ণার্ত সদস্যরা পান করেন টাটকা ডাবের পানি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সুপ্রভাত মঞ্চের মুখপাত্র অধ্যক্ষ তাপস কুমার বকসী, প্রফেসর অনুকূল চন্দ্র দাস, এডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকার, নেপাল চন্দ্র দাস ও গৌতম দাস।
ডাবের সবুজ খোলসের ভেতরের স্বচ্ছ মিষ্টি পানি যেন তাদের সকালের ক্লান্তি মুহূর্তেই দূর করে দেয়। শরীরচর্চায় ঝরা ঘামের পর এক গ্লাস প্রাকৃতিক পানীয় শুধু তৃষ্ণাই মেটায় না, এনে দেয় এক ধরনের স্বস্তি ও সতেজতা। ব্যস্ত নগরজীবনে সুস্থ থাকার এমন ছোট ছোট অভ্যাসই যেন বড় হয়ে উঠছে তাদের জীবনে।
ধর্মসাগর পাড়ে শুধু ‘সুপ্রভাত মঞ্চের’ সদস্যরাই নন, প্রতিদিন সকালেই হাঁটা ও ব্যায়াম করতে ছুটে আসেন কুমিল্লার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। চিকিৎসক, আইনজীবী, সাংবাদিক, প্রকৌশলী, অধ্যাপকসহ নানা পেশার মানুষের পদচারণায় সকাল থেকেই প্রাণ ফিরে পায় ধর্মসাগর পাড়। কেউ একা, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে, আবার কেউ দলবদ্ধভাবে নিয়মিত শরীরচর্চা করেন।
শরীরচর্চা শেষে অনেকেরই পছন্দ হয়ে উঠেছে টাটকা ডাবের পানি। আর সেই চাহিদা মেটাতে ধর্মসাগর পাড়ে বসে ডাবের পসরা সাজিয়ে বসেন বিক্রেতারা। তাদেরই একজন ফাতেমা আক্তার।
ডাব বিক্রেতা বলেন, “কুমিল্লার ঐতিহাসিক ধর্মসাগর পাড়ে প্রতিদিন সকালে হাঁটতে ও ব্যায়াম করতে অনেক মানুষ আসেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসক, আইনজীবী, সাংবাদিক, ইঞ্জিনিয়ার, প্রফেসরসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন। হাঁটা বা ব্যায়াম শেষে অনেকেই ডাবের পানি পান করেন। ডাবের মান ও আকার অনুযায়ী ১০০ থেকে ১৫০ টাকা দামে বিক্রি করি।”
ধর্মসাগর পাড়ের এই দৃশ্য যেন কুমিল্লার নাগরিক জীবনের এক অন্যরকম ছবি তুলে ধরে। একদিকে শরীরকে সুস্থ রাখার প্রত্যয়, অন্যদিকে সংস্কৃতি ও সংগীতের চর্চা—তার সঙ্গে প্রকৃতির কাছাকাছি থেকে সকালের নির্মল সময় কাটানোর আনন্দ। আর সবশেষে এক টুকরো প্রশান্তি এনে দেয় টাটকা ডাবের পানি।
শুধু ডাবের পানি নয়, ধর্মসাগর পাড়ের এমন সকালগুলো মানুষের মধ্যে তৈরি করছে একে অন্যের প্রতি ভালোবাসা, বন্ধুত্ব ও সামাজিক সম্প্রীতির বন্ধন। দিনের কর্মব্যস্ততা শুরুর আগে কয়েক ঘণ্টার এই মিলনমেলা যেন অনেকের কাছেই মানসিক প্রশান্তিরও এক অনন্য উৎস।
ইট-পাথরের নগরজীবনে যেখানে মানুষ ক্রমেই ছুটছে সময়ের পেছনে, সেখানে ধর্মসাগর পাড়ের এই সকালের আয়োজন মনে করিয়ে দেয়—সুস্থ থাকতে হলে শরীরের পাশাপাশি মনকেও ভালো রাখতে হয়। আর সেই ভালো থাকার গল্পে কখনো কখনো এক গ্লাস টাটকা ডাবের পানিও হয়ে উঠতে পারে নির্মল আনন্দের উপলক্ষ।