নিজস্ব প্রতিবেদক।।
শারদীয় দুর্গাপূজার মহাসপ্তমীতে কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন উপজেলার অর্ধশতাধিক পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ কুমিল্লা জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ। রবিবার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে তাঁরা চান্দিনা ও বরুড়া উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।
এ সময় পূজামণ্ডপের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, পূজারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করেন তাঁরা। পরিদর্শনকারী দলের নেতৃত্বে ছিলেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ কুমিল্লা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ তাপস কুমার বকসী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সংগঠনটির আইসিটি সম্পাদক অ্যাডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকার, দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর কুমিল্লা ব্যুরো প্রধান অধ্যাপক দীলিপ মজুমদার এবং জেলা ঐক্য পরিষদের সদস্য নেপাল চন্দ্র দাশসহ অন্যরা।
পরিদর্শনকালে তাঁরা চান্দিনা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী রামকৃষ্ণ আশ্রমসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখেন। পরে বরুড়া উপজেলার নবীপুর পূজামণ্ডপ, ঐতিহাসিক বরুড়া মহেশপুর চৌধুরী বাড়ির পূজামণ্ডপ এবং তলাগ্রাম পূজামণ্ডপসহ বিভিন্ন মণ্ডপ পরিদর্শন করেন। দুই উপজেলার অর্ধশতাধিক পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে তাঁরা দুর্গোৎসবের সার্বিক আয়োজন ও পূজামণ্ডপগুলোর পরিবেশ সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এ সময় বিভিন্ন পূজামণ্ডপের আয়োজক, স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী ও পূজারীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা জানান। শারদীয় দুর্গাপূজা বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অন্যতম প্রধান উৎসব। এ উৎসবকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে আনন্দ, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির পরিবেশ সৃষ্টি হয়। পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় এবং উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করার সুযোগ তৈরি হয়।
বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও বহুত্ববাদী সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে ধারণ করে শারদীয় দুর্গোৎসব প্রতিবছর বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে মিলন ও সৌহার্দ্যের বার্তা ছড়িয়ে দেয়। পূজামণ্ডপগুলো শুধু ধর্মীয় উপাসনার স্থান নয়, বরং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সামাজিক মেলবন্ধনেরও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। কুমিল্লার চান্দিনা ও বরুড়া উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে জেলা ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করেন।
মহাসপ্তমীর বিকেলে তাঁদের এ পরিদর্শন কার্যক্রমে দুই উপজেলার অর্ধশতাধিক পূজামণ্ডপ অন্তর্ভুক্ত ছিল।