• সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৪৭ অপরাহ্ন
Headline
অর্থের অভাবে থমকে যেতে পারে গোল্ডেন-৫ পাওয়া টুঙ্গিপাড়ার শয়নের স্বপ্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে নয় মাস পর পরিবারের কাছে ফিরলেন নিখোঁজ নারী ঢাকাস্থ চাঁদপুর জেলা বিসিএস অফিসার্স ফোরামের কমিটি গঠন আইএসকেএ চ্যাম্পিয়নশিপে ‎ব্রোঞ্জ পদক পেলেন মতলবের বক্সার জিদান রোটারি ক্লাব অব কুমিল্লার অফিসিয়াল ক্লাব গভর্নর ভিজিট অনুষ্ঠিত ত্রিশালে ইত্তেফাকুল উলামার ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন, সদস্য-দায়িত্বশীলদের উপস্থিতির আহ্বান দীর্ঘদিন মামলার জটিলতা শেষ মালিককে জমির দখল বুঝিয়ে দিলেন আদালত গম্বুজ-মিনারে মোগল স্থাপত্য, চার শতক ধরে দাঁড়িয়ে সেকান্দরনগর মসজিদ কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ভারতীয় সীমান্ত থেকে অর্ধকোটি টাকার অবৈধ চোরাচালানী মালামাল জব্দ শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলা শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজ করেঃ সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

বাবাকে হারিয়ে প্রতিজ্ঞা, ‘আমি ডাক্তার হব'

অর্থের অভাবে থমকে যেতে পারে গোল্ডেন-৫ পাওয়া টুঙ্গিপাড়ার শয়নের স্বপ্ন

Lovelu / ২৩ Time View
Update : সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬

টুঙ্গিপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি: 

‘বাবাকে চিকিৎসার অভাবে হারিয়েছি, আমি ডাক্তার হয়ে আর কোনো মানুষকে চিকিৎসার অভাবে মরতে দিতে চাই না।’—এমন স্বপ্ন বুকে ধারণ করে এগিয়ে যাচ্ছে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার শয়ন রাহা। কঠিন দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ (গোল্ডেন-৫) অর্জন করেছে সে। বিদ্যালয়ে হয়েছে প্রথম। কিন্তু এসএসসির পর উচ্চশিক্ষার খরচ জোগাড় করা নিয়ে এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছে তার পরিবার।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলার দারিয়াড়কুল গ্রামের শয়নের বাবা মৃত বিপুল রাহা ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে স্ট্রোকজনিত কারণে মারা যান। বাবার মৃত্যুর পর মা কমলা রাহাই হয়ে ওঠেন পরিবারের একমাত্র ভরসা। সেলাই মেশিন চালিয়ে সামান্য যে আয় করেন, তা দিয়ে কোনোভাবে সংসার চালানোর পাশাপাশি ছেলের পড়াশোনার খরচ জুগিয়েছেন।

শয়নের পরিবারের বসতঘর বলতে একটি মাত্র ঘর। সেটিও জরাজীর্ণ। বৃষ্টি হলে ঘরের ভেতরে পানি পড়ে। নেই কৃষিজমি বা অন্য কোনো সম্পদ। এমন পরিস্থিতিতেও মা ছেলের পড়াশোনা থামতে দেননি।

শয়ন বালাডাঙ্গা এসএম মুসা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ (গোল্ডেন-৫) পাওয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়ে প্রথম হয়েছে সে। টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ফলাফলেও চতুর্থ স্থান অর্জন করে কৃতিত্ব দেখিয়েছে শয়ন।

তার স্বপ্ন এখন আরও বড়। সে চিকিৎসক হতে চায়। বাবার মৃত্যুর অভিজ্ঞতাই তাকে এই পেশার দিকে টেনে নিয়েছে। শয়নের বিশ্বাস, একজন চিকিৎসক হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারলে চিকিৎসার অভাবে মানুষের মৃত্যু ঠেকাতে ভূমিকা রাখা সম্ভব।
কিন্তু স্বপ্ন পূরণের পথে অর্থনৈতিক সংকট বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিকিৎসক হতে হলে দীর্ঘ সময় পড়াশোনা করতে হবে। সেই পড়াশোনার ব্যয় বহন করার মতো আর্থিক সামর্থ্য শয়নের মায়ের নেই। সেলাই মেশিনের আয় দিয়ে সংসার চালাতেই যেখানে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে ছেলের উচ্চশিক্ষার খরচ জোগানো তার জন্য প্রায় অসম্ভব।

বালাডাঙ্গা এসএম মুসা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নির্মল কুমার মন্ডল বলেন, শয়নের মেধা ও পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ দেখে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করা হয়েছে। সে অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী। এখন তার স্বপ্ন পূরণে সরকারি অথবা সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, শয়নের মতো মেধাবী শিক্ষার্থী দারিদ্র্যের কারণে যদি উচ্চশিক্ষা থেকে ঝরে পড়ে, তাহলে তা অত্যন্ত দুঃখজনক হবে। তাদের প্রত্যাশা, সরকারি সহায়তার পাশাপাশি দেশের সামর্থ্যবান ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান শয়নের পাশে দাঁড়াবেন।

শয়নও থামতে চায় না। তার একটাই চাওয়া—অর্থের অভাবে যেন পড়াশোনা বন্ধ না হয়। সুযোগ পেলে সে চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করতে চায়।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সঠিক সময়ে সহযোগিতা পেলে টুঙ্গিপাড়ার এই মেধাবী কিশোর একদিন সত্যিই চিকিৎসক হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াবে। দারিয়াড়কুলের একটি অসচ্ছল পরিবারের ঘর থেকে উঠে আসা শয়নের স্বপ্ন তখন পরিণত হবে দেশের সম্পদে।
সহযোগিতার জন্য যোগাযোগ: ০১৭৩৬৩২৩৮১১


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category