কামরুল হাসান রাব্বি:
টানা ভারি বর্ষণে মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পে জলাবদ্ধতায় ভোগান্তিতে দুই গ্রামের মানুষ। পানি নিষ্কাশন খাল গুলো দখল হয়ে যাওয়ায় পানি সড়তে না পারায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টির অভিযোগ ভুক্তভোগীদে।
সরেজমিনে দেকা যায়,মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পে ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের দক্ষিণ রামপুর-কাচারিকান্দি গ্রামে ইয়াছিন মোল্লার বাড়ি পর্যন্ত টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক জলাবদ্ধতা। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দুই গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন সড়ক, বসতবাড়ি ও চলাচলের পথ পানিতে তলিয়ে গেছে। খাল দখল করে বাড়ি করে বসবাস করা ও কালভার্টের মুখে বাঁধ দেয়ায় এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা। মহিষমারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ও চরকালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হাঁটু পানি ভেঙে যাতায়াত করতে কষ্ট হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি নিষ্কাশনের খাল দখল ও ময়লা আবর্জনায় ভরাট হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশিত হতে পারছে না। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে এবং দীর্ঘ সময় ধরে পানি জমে থাকছে। দীর্ঘদিন ধরে খালটি যথাযথভাবে খনন ও দখলমুক্ত না করায় প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার সমস্যা আরও প্রকট হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শিক্ষার্থী, কৃষক ও ব্যবসায়ীদেরও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুল কাদের জিলানী জানান, এই রাস্তাটি জনগুরুত্বপূর্ণ, একটু বৃষ্টি হলেই হাঁটু পানি হয়ে পড়ে। মানুষ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সরকারি খাল ভরাট করে বাড়ি করেছে কয়েকজন।
ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক গাজী নাজমুল বলেন, এই জনগুরুত্বপূর্ণ এ খালের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
সচেতন মহলের দাবি, খালটি দ্রুত পুনঃখনন, দখলমুক্ত ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হলে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব। তাই জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ড. মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন এমপি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।
মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সেলিম শাহেদ জানান, জলাবদ্ধতার কারন নিষ্কাশন খাল গুলো বন্ধ হয়ে যাওয়া। খাল গুলো সংস্কারের কাজ চলমান। খাল গুলো সংস্কার ও দখলমুক্ত করা গেলে জলাবদ্ধতা নিরসনে করা সম্ভব হবে। আমরা এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করেছি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা কুলসুম মনি জানান, পানি নিষ্কাশন খাল গুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মূলতঃ জলাবদ্ধতা সৃষ্টির হচ্ছে। বর্তমান সরকার খাল খনন কর্মসূচি হাত নিয়ে কাজ করছে। আশা করি খাল গুলো খনন করা হলে এ সমস্যা থাকবে না।