কুমিল্লা প্রতিনিধি।।
কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী ধর্মসাগর পাড়ে গড়ে ওঠা সুপ্রভাত মঞ্চে নিয়মিত গানের আসরকে আরও প্রাণবন্ত, সুন্দর ও সুশৃঙ্খল রাখতে সাপ্তাহিক কার্যক্রমে নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে। এখন থেকে সপ্তাহে চারদিন অনুষ্ঠিত হবে নিয়মিত গানের আসর। আর বাকি তিনদিন গান না হলেও চলবে হাসি-আনন্দ, শরীরচর্চা, গল্প-আড্ডা ও পারস্পরিক কথাবার্তার আয়োজন।
মঞ্চের সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতি শুক্রবার, শনিবার, সোমবার ও বুধবার নিয়মিত গানের আসর বসবে। ওই দিনগুলোতে মঞ্চের সকল সদস্য ও গানপ্রেমীদের যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে রবিবার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার কোনো গানের মজমা অনুষ্ঠিত হবে না। তবে এই তিনদিনও ধর্মসাগর পাড়ের সুপ্রভাত মঞ্চ থাকবে প্রাণবন্ত। এ সময় সদস্যরা একসঙ্গে ব্যায়াম করবেন, হাসি-আনন্দে সময় কাটাবেন, নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা ও গল্প করবেন এবং পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করবেন।
মঞ্চের কর্ণধার বলেন, সপ্তাহের সাত দিন নিয়মিত গানের আসর বসানো সবার জন্যই বেশ কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই সবার সুবিধা ও মঞ্চের সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গান বন্ধের তিনদিনকে কোনোভাবেই বিরতি হিসেবে দেখা হচ্ছে না; বরং এই সময়টুকু শরীর ও মনকে সতেজ রাখা এবং একে অপরের সঙ্গে আরও সুন্দর সময় কাটানোর সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, এই মঞ্চ কেবল গান-বাজনার জায়গা নয়; এটি অনেকের কাছে আপনজনদের সঙ্গে দেখা হওয়ার স্থান, আনন্দ ভাগাভাগি করার জায়গা এবং প্রতিদিনের ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি ভুলে কিছুটা স্বস্তি পাওয়ার একটি প্রাণের ঠিকানা। তাই গান চারদিন হলেও মঞ্চের প্রাণের বন্ধন যেন প্রতিদিনই অটুট থাকে—এমন প্রত্যাশা সবার।
এদিকে সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও আনন্দ আরও বাড়াতে সপ্তাহে একদিন চা-নাস্তার আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সবাই মিলে চা-নাস্তা, গল্প-আড্ডা ও হাসি-আনন্দের মধ্য দিয়ে সুপ্রভাত মঞ্চের পারিবারিক আবহ আরও দৃঢ় হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সুপ্রভাত মঞ্চের পক্ষ থেকে সকল সদস্যের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, নির্ধারিত দিনগুলোতে সবাই যেন যথাসময়ে উপস্থিত হন এবং অন্যদেরও উপস্থিত হতে উৎসাহিত করেন। কারণ একজনের উপস্থিতিও এই মিলনমেলার আনন্দকে বাড়িয়ে দেয়, আর সবার সম্মিলিত উপস্থিতিই মঞ্চকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
সপ্তাহে চারদিন গান, তিনদিন ব্যায়াম-আড্ডা—এই নতুন আয়োজনের মধ্য দিয়ে ধর্মসাগর পাড় সুপ্রভাত মঞ্চে আনন্দ, বন্ধুত্ব ও সৌহার্দ্যের বন্ধন আরও দৃঢ় হবে—এমনটাই প্রত্যাশা মঞ্চের কর্ণধার ও সদস্যদের।