আবু নাছের
বাংলাদেশের চিকিৎসা শিক্ষা ও জনস্বাস্থ্যের অন্যতম পথিকৃৎ, প্রখ্যাত চিকিৎসক, শিক্ষাবিদ, সমাজসেবক এবং সাবেক পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য ডাঃ নওয়াব আলীর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) গভীর শ্রদ্ধা ও যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, চিকিৎসক ও শিক্ষাবিষয়ক সংগঠনের উদ্যোগে স্মরণসভা, কোরআনখানি, দোয়া মাহফিল ও কবর জিয়ারতের আয়োজন করা হয়। বক্তারা তাঁর কর্মময় জীবন, অসামান্য অবদান এবং মানবসেবায় আত্মনিবেদিত আদর্শের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
বক্তারা বলেন, ডাঃ নওয়াব আলী ছিলেন একজন দূরদর্শী চিকিৎসক, দক্ষ শিক্ষাবিদ এবং মানবকল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিত্ব। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রথম বাংলাদেশি অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে চিকিৎসা শিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণার প্রসার এবং আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
পাশাপাশি তিনি পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচিত সদস্য হিসেবে জনগণের স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করেছেন। চিকিৎসা পেশাকে তিনি কেবল জীবিকা নয়, মানবসেবার এক মহান ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন।
বিশেষ করে চাঁদপুরের মতলব অঞ্চলে ডায়রিয়া রোগের ভয়াবহতা উপলব্ধি করে তিনি যে উদ্যোগ ও গবেষণার ভিত্তি রচনা করেছিলেন, তা পরবর্তীকালে আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা গবেষণা ও জনস্বাস্থ্য উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আলোচনায় বক্তারা আরও বলেন, সততা, দেশপ্রেম, কর্মনিষ্ঠা ও মানবিক মূল্যবোধে উজ্জ্বল ডাঃ নওয়াব আলীর জীবন নতুন প্রজন্মের চিকিৎসক, শিক্ষার্থী ও সমাজসেবীদের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা। দেশের চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ইতিহাসে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
অনুষ্ঠানের শেষে মরহুম ডাঃ নওয়াব আলীর রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত সকলে তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে মানবকল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।