নুরুল আফছার নুরী, ফটিকছড়ি প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী মানিকপুর গ্রাম এখন ধুরুং খালের ভয়াবহ ভাঙনের মুখে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। প্রতিদিনই খালের তীব্র স্রোতে একের পর এক কৃষিজমি, বসতভিটা, দোকানপাট ও গাছপালা বিলীন হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন অব্যাহত থাকলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে পুরো এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
২৫ জুলাই শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাইনেচ্ছুলা ব্রিজ থেকে আনুমানিক এক হাজার ফুট দূরে ধুরুং খালের একটি তীব্র বাঁকে পানির প্রবল স্রোত আছড়ে পড়ছে। ওই অংশে ভয়াবহ ভাঙনের ফলে কয়েকটি দোকান, বিস্তীর্ণ কৃষিজমি এবং মানুষের বসতভিটার বড় অংশ ইতোমধ্যে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। প্রতিদিনই ভাঙ্গনের পরিধি বাড়তে থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, বর্তমানে ভাঙ্গন ফটিকছড়ি-লক্ষীছড়ি প্রধান সড়ক থেকে মাত্র প্রায় ১০০ ফুট দূরে অবস্থান করছে। এভাবে ভাঙ্গন চলতে থাকলে যেকোনো সময় গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সড়কটি ভেঙে গেলে ফটিকছড়ি, লক্ষীছড়িসহ আশপাশের এলাকার হাজারো মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিপণ্য পরিবহনসহ জনজীবনের প্রায় সব ক্ষেত্রেই এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এলাকাবাসী জানান, বর্ষা মৌসুমে পানির চাপ বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঁঙ্গনের তীব্রতাও বেড়ে যায়। প্রতিটি বর্ষায় মানুষ আতঙ্ক নিয়ে বসবাস করে। অনেক পরিবার ইতোমধ্যে নিজেদের বসতঘর সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। আবার অনেকেই সর্বস্ব হারানোর আশঙ্কায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও ভয়াবহ হবে। তারা ধুরুং খালের ঝুঁকিপূর্ণ অংশে জরুরি ভিত্তিতে ব্লক স্থাপন, তীর সংরক্ষণ এবং স্থায়ী ভাঙ্গন প্রতিরোধ প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।
এলাকাবাসী উপজেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড, জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের প্রতি জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের দাবি, মানিকপুর গ্রাম এবং ফটিকছড়ি-লক্ষীছড়ি প্রধান সড়ক রক্ষায় অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় শুধু একটি গ্রাম নয়, পুরো অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জনজীবন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।
মানিকপুরবাসীর একটাই দাবি—”ভাঙ্গন রোধে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নিন, মানিকপুর গ্রামকে রক্ষা করুন।”