• সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩০ পূর্বাহ্ন
Headline
চিকিৎসক রোগীর মধ্যে মানসিক স্বস্তি ও আস্থা তৈরি করতে পারেন: মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিন ত্রিশাল নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নির্বাহী পরিষদ গঠন মতলব উত্তরে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির কমিটি গঠন কুমিল্লায় গীতা শিক্ষালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে মহালয়া উৎসব উদযাপন কালিয়াজুরীতে টিনের চালে দুই বানর, উৎসুক জনতার ভিড় আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আইনজীবীদের ভূমিকা রাখতে হবে : জসীম উদ্দিন সরকার জমকালো আয়োজনে পালিত হলো লক্ষ্মীর ৯ম জন্মদিন শিক্ষিকা তাসলিমা আক্তারের মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণ ও দোয়া মাহফিল মতলব উত্তরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৬ দোকান পুড়ে ছাই, কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি কৃষকদের শ্রম কমাতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর যন্ত্রপাতি পৌঁছে দিচ্ছে: মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন এমপি

হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যের টানে ত্রিশালে পলো বাওয়া উৎসব

Lovelu / ১০৭ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬

 এম.এ.এইচ রাকিবুল ইসলাম

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার মঠবাড়ী ইউনিয়নের অলহরি (নাগেশ্বরি) নদীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী পলো বাওয়া উৎসব। একসময় নদী-খাল-বিলে পলো নিয়ে দলবদ্ধভাবে মাছ ধরার দৃশ্য ছিল গ্রামীণ জীবনের পরিচিত চিত্র। তবে আধুনিকতার ছোঁয়া, জলাশয় সংকুচিত হওয়া ও দেশীয় মাছের অভাবসহ নানা কারণে বর্তমানে এমন আয়োজন সচরাচর চোখে পড়ে না। সেই হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যকে ঘিরেই অলহরি নদীতে বসে প্রাণের এই উৎসব।

২৭ আগষ্ট (বৃহস্পতিবার) সকাল থেকেই পলো, জালসহ মাছ ধরার বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে নদীর তীরে জড়ো হতে থাকেন স্থানীয় বিভিন্ন বয়সী মানুষ। নির্ধারিত সময়ে একসঙ্গে শত শত মানুষ পলো হাতে নদীর পানিতে নেমে পড়লে মুহূর্তেই সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে প্রবীণ, সব বয়সী মানুষ এতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

পলো হাতে নদীর পানিতে মাছ ধরার দৃশ্য দেখতে নদীর দুই পাড়ে ভিড় করেন অসংখ্য উৎসুক মানুষ। কেউ মাছ ধরার আনন্দে মেতে ওঠেন, কেউ আবার বন্ধু-স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে উপভোগ করেন ব্যতিক্রমী এ আয়োজন। পানিতে মানুষের ছোটাছুটি, পলো ফেলার দৃশ্য আর হাসি-আনন্দে পুরো নদীপাড়ে তৈরি হয় প্রাণবন্ত আবহ।

স্থানীয়রা বলেন, একটা সময় গ্রামবাংলার নদী, খাল, বিল ও জলাশয়ে পানি কমে গেলে পলো বাওয়া ছিল মানুষের অন্যতম আনন্দের আয়োজন। পাড়া-মহল্লার মানুষ দলবেঁধে পলো নিয়ে মাছ ধরতে নামতেন। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে সেই দৃশ্য এখন প্রায় হারিয়ে গেছে। জলাশয় কমে যাওয়া, পানি ও পরিবেশের পরিবর্তন এবং দেশীয় মাছের সংকটের কারণে বর্তমানে আগের মতো পলো বাওয়া উৎসব দেখা যায় না।

তাই অলহরি (নাগেশ্বরী) নদীর এ আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ছিল বাড়তি আগ্রহ। প্রবীণদের কাছে এটি পুরোনো দিনের স্মৃতি ফিরিয়ে আনার উপলক্ষ, আর নতুন প্রজন্মের কাছে গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা একটি ঐতিহ্যকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নদী-খাল-বিল ও দেশীয় মাছের আবাসস্থল সংরক্ষণের পাশাপাশি গ্রামীণ লোকজ সংস্কৃতির এমন আয়োজনগুলোও টিকিয়ে রাখা হবে। এতে একদিকে যেমন মানুষের মধ্যে আনন্দ ও সম্প্রীতি বাড়বে, অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিত হবে বাংলার সমৃদ্ধ গ্রামীণ ঐতিহ্য।

হারিয়ে যেতে বসা পলো বাওয়া ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করে অলহরি নদীর এ আয়োজন তাই শুধু মাছ ধরার উৎসব নয়। এটি গ্রামবাংলার শেকড়, স্মৃতি ও লোকজ সংস্কৃতির এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category