নিজস্ব প্রতিবেদক :
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল লঞ্চ ঘাটের জেটিতে লঞ্চ থেকে নামার সময় মেঘনা নদীতে পড়ে এক যুবক নিখোঁজ হয়েছেন।শুক্রবার(২৫সেপ্টেম্বর-২০২৬)সকাল ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ থেকে চাঁদপুরগামী মুকবিল-২ লঞ্চটি থেকে পড়ে দূ্র্ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় লঞ্চসহ দুই জন স্টাফকে আটক করেন।
নিখোঁজ যুবকের নাম রবিন। তার বাড়ি শরীয়তপুরে। তার শশুর বাড়ি মতলব উত্তর উপজেলার নবীপুর মোল্লা বাড়ি।রবিনের স্ত্রী নাসরিন এ তথ্য জানিয়েছেন।
চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনার প্রায় তিন ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। এখনো নিখোঁজ যুবকের সন্ধান ও পরিচয় পাওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নারায়ণগঞ্জ থেকে চাঁদপুরগামী মুকবিল-২ লঞ্চটি ষাটনল লঞ্চঘাটে যাত্রী নামাচ্ছিল। এ সময় নিখোঁজ যুবক লঞ্চ থেকে নামার পর নিজের ব্যাগ লঞ্চে রেখে যাওয়ার কথা মনে পড়ে আবার লঞ্চে ওঠেন। পরে ফের লঞ্চ থেকে নামার সময় লঞ্চটি পেছনের দিকে চালিয়ে দেওয়া হলে ঘাটে লাফ দিয়ে নামার চেষ্টা করেন। এ সময় মেঘনা নদীতে পড়ে নিখোঁজ হয় ।
ঘটনার পর মুকবিল-২ লঞ্চটি দ্রুত মোহনপুর লঞ্চঘাটের দিকে চলে যায়। মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ লঞ্চসহ দুই জন স্টাফকে আটক করেন।
নিখোঁজ যুবকের সন্ধানে বেলতলী নৌ পুলিশ, মোহনপুর নৌ পুলিশ ও মতলব উত্তর থানা পুলিশের সদস্যরাও স্থানীয়দের সহায়তায় নদীতে তৎপরতা শুরু করেন ।ঘটনার প্রায় ৪৫ মিনিট পর সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে খবর পায় চাঁদপুর নদী ফায়ার সার্ভিস। এরপর আবহাওয়া ও নদীর পরিস্থিতির কারণে সড়কপথে ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হয় ফায়ার সার্ভিসের দল। প্রায় তিন ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে ফায়ার সার্ভিস ও বিআইডব্লিউটিএর ডুবুরি দল।
চাঁদপুর নদী ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে ষাটনল লঞ্চঘাটে একজন যাত্রী নদীতে পড়ে যাওয়ার খবর পান তারা। আবহাওয়া প্রতিকূল থাকায় সড়কপথে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি অনুকূলে আসার পর ডুবুরি দলকে দিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএর ডুবুরি দলও একই সঙ্গে উদ্ধার কাজে অংশ নিয়েছে।
চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএর সহকারী পরিচালক সঞ্জয় দেবনাথ জানান, খবর পাওয়ার পর চাঁদপুর থেকে ডুবুরি দল নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসা হয়েছে। নদীতে স্রোত থাকায় ঘটনাস্থলে না পাওয়া গেলে ভাটির দিকে তল্লাশি চালানো হবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সন্ধ্যা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালানোর হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা কুলসুম মনি জানান, বিষয়টি জানার পরপরই নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি ইউনিটের সঙ্গে কথা বলেছি। নিখোঁজ যুবকের সন্ধানে প্রয়োজনীয় উদ্ধার তৎপরতা চালানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান , লঞ্চ চালকদের ভুলের কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে তারা মনে করছেন। দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ও যাত্রী ওঠানামার সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।