• শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:১১ পূর্বাহ্ন
Headline
আগামী নির্বাচন অন্যান্য দায়িত্বের মতো নয়,বরং একটি ঐতিহাসিক দায়িত্বঃ জেলা প্রশাসক মো. নাজমুল ইসলাম সরকার সাংবাদিকদের প্রধান করণীয় হলো নিরপেক্ষতা ও সত্যনিষ্ঠা বজায় রাখা ……ইউএনও কেএম ইশমাম ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট কাল সন্ধ্যায় জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা সমাজে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবিঃ ইউএনও মাহমুদা কুলসুম মনি সামাজিকভাবে দুর্নীতিরবাজদের ঘৃনা করা উচিতঃ ইউএনও মাহমুদা কুলসুম মনি মানুষের দুঃসময়ে সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়া আমাদের প্রধান দায়িত্বঃ জেলা প্রশাসক মো. নাজমুল ইসলাম সরকার মতলব উত্তরে বিজয় দিবস উদযাপনে প্রস্তুতি সভা মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষায় দুর্বলতা উচ্চশিক্ষায় প্রভাব ফেলেঃ ইউএনও মাহমুদা কুলসুম মনি  ধনাগোদা নদীর ওপর মতলব-গজারিয়া ঝুলন্ত সেতু প্রকল্প পরিদর্শনে কোরিয়ান প্রতিনিধি দল

হারিয়ে যাচ্ছে জল-কাদায় মাছ ধরার উৎসব

Lovelu / ৭৮৭ Time View
Update : রবিবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২২

মো:সৈকত জামান(প্রিন্স):

এক সময় গ্রাম বাংলায় বর্ষা শেষে নিচু জমি খাল-বিলে পানি সেচে মাছ ধরা হতো। মাছ ধরার চিরায়ত সে দৃশ্য সচরাচর এখন আর চোখে পড়েনা।

ভাদ্র মাসের তীব্র গরম আর প্রখর রোদের তেজে নদ-নদীর পানি কমে যাবার সাথে সাথে শুকিয়ে যেতে থাকে ডুবে থাকা খেতখলা। পানি শুকিয়ে গেলেও এসব স্থানে আটকা পড়ে নানা দেশীয় মাছ। আর সে সময় কাদা পানিতে নেমে হাত দিয়ে মাছ শিকার করে গ্রামের মানুষ।

প্রখর রোদে হাঁটু কাদা পানিতে মাছ ধরা গ্রাম বাংলার অন্যতম বিনোদনও বটে। শত শত বছর ধরে এ ধারা চলে আসছে, যা আজও বহমান।

নদী বেষ্টিত টাঙ্গাইল জেলার চারদিকে রয়েছে যমুনা-ধলেশ্বরীসহ একাধিক নদী। কালের বিবর্তনে এসকল নদীর আয়তন অনেকটাই ছোট হয়ে আসছে। তারপরও বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে টইটম্বুর হয়ে উঠে এসকল নদী। শুধু নদী নয়, পানি বৃদ্ধি পায় পুকুর-ডোবা আর খাল-বিলের। ডুবে যায় ধানী খেত আর নিচু জমি। পানির সাথে সেই জমিতে দেশি জাতের নানা মাছের আগমন ঘটে।

একসময় খাল-বিল, পুকুর-ডোবা আর ক্ষেত-খলা শুকিয়ে এলে থালা-বাটি দিয়ে চলে সামান্য পানি সেচার কাজ। আর পুকুর-ডোবার পানি সেচা হয় পাম্প মেশিন দিয়ে। এরপর চলে মাছ ধরার উৎসব। রীতিমতো আনন্দ উল্লাস করে লোকজন পুকুর-ডোবা, খাল-বিলের শূন্য পানির কাদার ভিতরে হাত ঢুকিয়ে তুলে আনে একের পর এক মাছ। সেচ দেয়া পুকুরে চাষ করা মাছের পাশাপাশি পাওয়া যায় দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন মাছ। আর ডোবায় মেলে শোল, টাকি, পুঁটি, খলসে, কৈ, মাগুর, সিং, ট্যাংরাসহ দেশি প্রজাতির বিভিন্ন মাছ।

কাদায় মাছ ধরার এমনই এক উৎসবের দেখা মিলল টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চরাঞ্চল মাহমুদনগরে। মঙ্গলবার সকালে টাঙ্গাইল-মাহমুদনগর সড়কের পাশের এক ধানী খেতে দেখা পাওয়া যায় এমন আয়োজনের।

স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছর বর্ষাকাল শেষ হলে পানি কমে গেলে এই এলাকার নিচু জমিগুলোতে এমন মাছ ধরার উৎসব চলে। সেই উৎসবে মাছ ধরায় মেতে উঠে নারী-পুরুষ, ছেলে-বুড়ো সবাই। কাদা পানিতে নেমে কে কতো বেশি মাছ ধরতে পারে, এই নিয়ে চলে অলিখিত প্রতিযোগীতা।

তারা জানান, আগে এমন করে নানা জাতের দেশীয় মাছ প্রচুর ধরা গেলেও, এখন আর সেদিন নেই। নেই মাছের সে প্রাচুর্য। প্রতিনিয়ত মাছের অভয়ারণ্য কমে যাওয়ায় আগের মতো জমে ওঠেনা মাছ ধরার উৎসব। দেশীয় মাছের উৎসগুলো ক্রমেই যেন হারিয়ে যাচ্ছে।

আক্ষেপ করে একজন প্রবীণ বললেন, ‘খালবিল থেকে দিন শেষে মাছ নিয়ে বাড়ি ফেরার দৃশ্য এখন তেমন চোখে পড়েনা। আবার পাঁচ মিশালী মাছের রান্নার ঘ্রাণও এ মৌসুমে এখন আর আগের মতো ছড়িয়ে পড়েনা গ্রামের বাড়ি বাড়ি।’

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category