নিজস্ব প্রতিবেদক:
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় মেঘনা নদীর পাড়ে বসতবাড়ী থেকে কারেন্ট জালে আটকাপড়া সাপ উদ্ধার করতে গিয়ে সাপের কামড়ে আহত হয়েছে এক যুবক।সোমবার (২৭ এপ্রিল২০২৬) উপজেলার এখলাসপুর ইউনিয়নের এখলাসপুর আবাসন প্রকল্প এলাকার মেঘনা নদীর পাড়ে এ ঘটনা ঘটে। ভয়ংকর বিষধর রাসেল ভাইপার (চন্দ্রবোড়া) সাপ দেখা দেওয়া আতঙ্ক এলাকাবাসী
স্থানীয়রা জানান,উপজেলার মেঘনা নদীর পাড়ে বসতবাড়ী থেকে কারেন্ট জালে আটকাপড়া সাপ উদ্ধার করতে গিয়ে সাপের কামড়ে আহত হয়েছে যুবক সোহেল প্রধান (৩১)। পরে সেই সাপটিকেই পলিথিন ব্যাগে ভরে বাড়িতে রেখে চিকিৎসার জন্য চাঁদপুর সদর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ছুটে যান তিনি। পরে জানা গেলো সাপটি সেই বিষধর রাসেল ভাইপার।সোহেল প্রধান এখলাছপুর গ্রামের সেলিম প্রধানের ছেলে।
আবারও ভয়ংকর বিষধর রাসেল ভাইপার (চন্দ্রবোড়া) সাপের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে চাঁদপুরের মতলব উত্তর
সাপের কামড়ে আহত যুবক এ প্রসঙ্গে সোহেল প্রধান জানান, সকালে মেঘনা নদীর পাড়ে নতুন বাড়িতে যাওয়ার সময় একটি কারেন্ট জালে বড় আকৃতির রাসেল ভাইপার সাপ আটকা পড়ে থাকতে দেখেন। সাপটি ছটফট করছিল। তিনি সাপটিকে জাল থেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করলে হঠাৎ সাপটি তার হাতে কামড় দেয়।তাৎক্ষণিকভাবে তিনি সাপটিকে ধরে পলিথিন ব্যাগে ভরে বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরে প্লাস্টিকের বৈয়মে সাপটিকে সংরক্ষণ করে দ্রুত চাঁদপুর সদর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে গিয়ে ভ্যাকসিন নেন। চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে আসেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত কয়েক বছর ধরে মেঘনা নদীর পাড় ও নদীর পশ্চিমের চরাঞ্চলের বোরচর, চরকাশিম, বাহেরচর, বাহাদুরপুর, চর উমেদ ও এখলাসপুর এলাকায় বিষধর সাপের উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। গত বছরও এখলাসপুর নদীর পাড়ে বেশ ক’টি রাসেল ভাইপার মারা হয়েছিল।
তারা অভিযোগ করে বলেন, অনেক সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে কাটার ভ্যাকসিন না থাকায় রোগীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এজন্য জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণ অ্যান্টিভেনম সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
ইউপি চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম মুন্না ঢালী বলেন, সামনে বর্ষা মৌসুমে সাপের বিষয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হবে। যদি কাউকে সাপে কামড় দেয়, তাহলে কোনো ধরনের ঝাড়ফুঁক নয় তাৎক্ষণিকভাবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হবে।
মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাজন কুমার দাস জানান, আমাদের হাসপাতালে তিনটি অ্যান্টিভেনম রয়েছে। সাপে কাটা তিন জন রোগিকে দেয়া যাবে। আমরা আরও সংগ্রহ করছি।
চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. একেএম মাহবুবুর রহমান বলেন, আমাদের হাসপাতালে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম রয়েছে। আমরা বর্তমানে প্রায় ২০০টি ভ্যাকসিন সংগ্রহ করেছি।প্রতিটি ভেনমের দাম প্রায় ১ হাজার ৪০০ টাকা।