মাহবুব আলম লাভলু:
নামেই চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভা প্রথম শ্রেণির। পৌরসভায় জনপ্রতিনিধি নেই।৯০% পদ শূন্য। রাস্তা ও জলাবদ্ধতায় পৌর এলাকার বেহাল অবস্থা। পৌরবাসী নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত ।
ছেংগারচর পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৮ সালের ৫ এপ্রিল এ পৌরসভাটি ‘গ’ শ্রেণিতে প্রতিষ্ঠা হয়। ২০১১ সালের ৭ আগস্ট ‘গ’ শ্রেণি থেকে ‘খ’ শ্রেণিতে উন্নীত হয়। পরবর্তীকালে ২০১৭ সালের ১১ জানুয়ারি এ পৌরসভাকে ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীত করা হয়।
‘ক’ শ্রেণির পৌরসভার নিয়োগকাঠামো অনুযায়ী পৌরসভার স্থায়ী নিয়োগে ১৫৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকার কথা। আছে মাত্র ১৫ জন। নিয়োগে আছে মাত্র এক জন নির্বাহী প্রকৌশলী, এক জন সহকারী প্রকৌশলী, এক জন হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা, এক জন কর নির্ধারকসহ অফিস সহায়ক, নলকূপ মিস্ত্রি, রোলার চালক, মিক্সার মেশিন অপারেটর ও গাড়ির ড্রাইভারসহ স্থায়ী নিয়োগের স্টাফ আছে মাত্র ১৫ জন।
১৪০টি পদ শূন্য রয়েছে। ছেংগারচর পৌরসভার ৯০% স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদ শূন্য।
জানা গেছে, ছেংগারচর পৌরসভার ৫০ কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে অর্ধেকের বেশি রাস্তাই কাঁচা। আর সামান্য পাকা রাস্তার বেশির ভাগই বেহাল। পৌর পাম্পের মাধ্যমে স্বল্পমূল্যের সাপ্লাইয়ের পানির সুবিধা পেয়েছে ১০ হাজার ৬ শতাধিক পরিবারের মধ্যে মাত্র ৩২৯ পরিবার। এই পৌরসভার ৫০ কিলোমিটার সড়কে বাতি আছে মাত্র ৫২টি, যা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই কম। ময়লা সংরক্ষণ বা ডাম্পিংয়ের কোনো ব্যবস্থাই নেই। বৃষ্টি হলে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। বৃষ্টি হলেই পৌর সভা কার্যালয়ে ভিতরে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এক তলার ফ্লোরে পানি উঠে যায়।
সচেতন মহল বলছে, শূন্য পদে জনবল পদায়ন করলে নাগরিক সেবা কার্যক্রমে গতি ফিরবে। জনবল সংকটের কারণে কাক্সিক্ষত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন পৌরবাসী। অথচ নিয়মিত পৌর কর পরিষদ করে নাগরিক সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না।
পৌরসভার কয়েক জন নাগরিকের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, শিক্ষাদীক্ষা ও ব্যবসায় ছেংগারচর পৌর এলাকাটি ভালো অবস্থানে থাকলেও বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, অনেক কাঁচা রাস্তা, পাকা রাস্তাগুলোও জরাজীর্ণ, অপরিচ্ছন্নতা ও নগরিক সেবায় এই পৌরসভাটি অনেক পিছিয়ে রয়েছে। এছাড়াও পানি সরবরাহ, পয়োনিষ্কাশন ও সড়ক বাতি নেই বললেই চলে। ময়লা-আবর্জনা ফেলারও কোন নির্দিষ্ট জায়গায় নেই। যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। ফলে পানি সড়ার নালা গুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ও পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।
পৌরসভা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে যে উন্নয়ন হওয়ার কথা সে তুলনায় অনেক কম হয়েছে। আর পৌরসভাটি নিজস্ব আয় কম। এখানকার নিজস্ব আয় দিয়ে তেমন উন্নয়ন কাজ করা সম্ভব না। সরকারি বরাদ্দ উন্নয়ন কাজ করা সম্ভব। জনবল নিয়োগের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।