শহিদুল ইসলাম খোকনঃ
মতলব উত্তর উপজেলয় কিশোর গ্যাংদের আঘাতে মাদ্রাসার শিক্ষক- ছাত্রসহ ৫ জন গুরতর আহত হয়েছে।৫ জুন রবিবার ঘটেছে উপজেলার বাগানবাড়ি ইউনিয়নের খন্দকার কান্দি মাদ্রাসায়। এবিষয়ে মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল নূর মোহাম্মদ মতলব উত্তর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন ।
সোমবার(৬ জুন) মাদরাসা প্রাঙ্গণে খন্দকার কান্দি মাদ্রাসার শিক্ষক ও ছাত্রদের উপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এলাকার কিশোর গ্যাং সদস্য পরিচয়ে মাদ্রাসার আম, কাঠালসহ অন্যান্য চুরি করে নিয়ে যায়। এতে মাদ্রাসার ছাত্ররা বাধা দিলে তারা গালমন্দ ও মারধর করে।
সেই ঘটনার সূত্র ধরে ৫ জুন রবিবার বিকেলে উপজেলার বাগানবাড়ি ইউনিয়নের খন্দকার কান্দি গ্রামের আবু তালেব সরকারের ছেলে মো. সাকিব (১৮), বাহার উদ্দিন সরকারের ছেলে মো. অন্তর (১৭), বোরহান সরকারের ছেলে রায়হান (১৮), জসিম উদ্দিন মৃধার ছেলে মো. জিয়াম (২০), তোফায়েল (২৩), আব্দুল হাকিম বাচ্চু সরকারের ছেলে নাইম সরকার (১৮), গিয়াস উদ্দিন সরকার (আব্দুস ছামাদ মৃধা) ছেলে রাশেদুল ইসলামসহ আরো ৭/৮ জন মিলে মাদ্রাসার কাঠাল পাড়তে গেলে ছাত্ররা বাধা দেয়। তাদে কিশোর গ্যাংরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের সাথে থাকা লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে। তাদের চিৎকারে মাদ্রাসার শিক্ষকরা এগিয়ে এলে তাদেরকে চাইনিজ কুড়াল ও রড দিয়ে আঘাত করে।
এতে কমপক্ষে ৫ জন আহত হয়েছে। আহতরা হলেন,খন্দকার কান্দি মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মো. আবু হানিফ (৬০), ভাইস প্রিন্সিপাল নূর মোহাম্মদ (৫৬), সহকারী শিক্ষক শাখাওয়াত হোসেন, ছাত্র রিয়াদুল ইসলাম (১২), মো. সাব্বির (১৮)। এদের মধ্যে শিক্ষক ৩ জন গুরতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রিন্সিপাল মো. হানিফ মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লরছেন।
এবিষয়ে মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শাহজাহান কামাল বলেন, মাদ্রাসার শিক্ষাক ও ছাত্রের উপর হামলা এটা মেনে নেওয়ার মতো নয়। এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি, তরিৎ গতিতে আাইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মাদরাসা প্রাঙ্গনে মানববন্ধনে মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল নূর মোহাম্মদ, সিনিয়র শিক্ষক হুমায়ুন কবির মিয়াসহ অন্যান্য শিক্ষক ও এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন, সুনামের সহিত দায়িত্ব পালনকরা প্রিন্সিপালসহ ৩ শিক্ষক ও ২ ছাত্রদের উপর যারা হামলা করেছে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে যথাযত শাস্থির ব্যবস্থা নিতে হবে। সমাজের এমন নোংরা ঘটনাগুলো সমাজের জন্য ক্ষতিকারক।
সমাজের শিক্ষিত ও যুব সমাজ যদি সচেতন হয়ে উঠে তাহলে এমন নেক্কারজনক ঘটনা থেকে সমাজকে মুক্ত করা যেতে পারে। সমাজের মানুষ যদি চায়, প্রশাসনের যদি আন্তরিকতা থাকে তাহলে আসামী গ্রেপ্তার হবেই।
এই হামলার যদি প্রকৃত বিচার না হয়, তাহলে আগামীতে কোনো শিক্ষকের মান মর্যাদা থাকবেনা। অতএব হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্থির ব্যবস্থা নিতে থানা পুলিশকে অনুরোধ করছি।