• রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ০১:১৬ অপরাহ্ন
Headline
চাঁদপুরে তারেক রহমানের জনসভায় মতলব উত্তরের নেতাকর্মীদের লঞ্চযাত্রা ও অংশগ্রহণ দ্রুত সময়ের মধ্যেই চাঁদপুরে ইপিজেড স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবেঃ প্রধানমন্ত্রী  ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক হলেন আব্দুল আজিজ কোরবানির পশুর কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই — মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী  মতলব উত্তরের মেঘনা পাড়ে রাসেল ভাইপার কামড় খেয়ে সাপ নিয়ে বাড়িতে যুবক কেএফটি কলেজিয়েট স্কুল ডিবেট ক্লাবের ‘ডিবেটার হান্ট ২০২৬’ সফলভাবে সম্পন্ন প্রতি পরিবার থেকে আমরা মাদকে না বলি, তাহলে মাদক নিমূল হয়ে যাবে: ড. মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন এমপি  শ্রীনগরে উৎসব মুখর পরিবেশে  বাংলা নববর্ষ উদযাপন মতলব দক্ষিণে প্রশাসনের বর্ণিল আয়োজনে বর্ষবরণ উদযাপিত মতলব উত্তরে উৎসবমুখর বাংলা নববর্ষ উদযাপন 

চিকিৎসা সেবা ব্যাহত

নানা সমস্যায় আক্রান্ত হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে

Lovelu / ২৬১ Time View
Update : রবিবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২২

মোঃ সাজ্জাদ হোসেন রনিঃ

চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত একমাত্র চিকিৎসা কেন্দ্র ৩১ শয্যা বিশিষ্ঠ হাসপাতালটির জরাজীর্ণ অবস্থা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের কাজের ধীরগতির কারণে ভোগান্তিতে শিশুসহ সাধারণ রোগীরা। নেই কোনো প্রকার ডিজিটাল চিকিৎসা সেবার সরঞ্জাম। পর্যাপ্ত বেড না থাকায় চিকিৎসা নিতে হয় ফ্লোরে। একদিকে ডায়রিয়া রোগের প্রকোপ অন্যদিকে হাসপাতালের ময়লার গন্ধে অতিষ্ঠ সাধারন মানুষ। পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার অভাবে সুস্থ হতে এসে, অসুস্থই হয়ে যেতে হয় অনেকের। পরিবেশ কোনো তদারকি নেই হাসপাতাল কতৃপক্ষের।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের প্রতিটি সেবার কক্ষ, ডাক্তার, রোগী, কর্মচারীর আবাসস্থল ও রুম গুলোর বর্তমানে নাজুক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পর্যাপ্ত বেড না থাকায় অনেককে ফ্লোরে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। প্রতিটি কক্ষের উপরের টিন নষ্ট হওয়ায় তীব্র গরমে নাভিশ্বাস ফেলতে হচ্ছে । ময়লা আবর্জনা ড্রেনে পড়ে ভাগাড়ে পরিবেশে পরিণত হচ্ছে। টয়লেটের গুলোরও বেহাল অবস্থা। বেডের চাদরে ময়লা – আবর্জনা লেগে থাকে । ফলে রোগীর সেবা নেওয়ার সামান্যতম পরিবেশ ও থাকেনা । পাশাপাশি ডাক্তারের সেবা নিতেও পোহাতে হয় দুর্ভোগ। রোগীদের ব্যবহৃত ঔষধের খোসা, খাবারের ময়লা যেখানে সেখানে ফেলা হচ্ছে। এতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে সর্বক্ষেত্রে।

৩১ শয্যার হাসপাতালটিতে ২৪ টি সিটে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। ভবন সংকটে নার্সদের ডিউটি রুমের সামনেই সেবা দিতে হয়। ৩ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী থেকেও পরিবেশের বেহাল দশা যেনো চোখেই পড়ে না উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কতৃপক্ষের। জরুরি বিভাগেও রোগীদের অপেক্ষার প্রহর গুনতে হয় বলে ভুক্তভূগীরা জানিয়েছেন।

এতে রোগীদের সাথে আসা সচেতন মানুষরা বলছেন, সরকারি স্বাস্থ্য খাতে হাসপাতাল গুলোর উন্নতি হলেও এই উপজেলা কমপ্লেক্সটির চিকিৎসা সেবার মান আজও উন্নত হলো না। তাঁরা আরোও জানান, ভবনের কাজ যথারীতি চলবে। তাই বলে চিকিৎসা সেবা পরিচ্ছন্নতা ব্যাহত হবে এটা কোনো কাম্য নয় বলে জানান।

উপজেলার বাসিন্দা জেসমিন আক্তার বলেন, আমার ছেলের টাইফয়েড জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসা পাবার জন্য হাসপাতালে আসি। এসে দেখি কোন সিট খালি নেই পরে ফ্লোরে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। সকল প্রকার চিকিৎসা সামগ্রী বাহির থেকে কিনে আনতে হলো। চিকিৎসা শুরু হলে সুঁই-স্যলাইন সহ সব ফার্মেসী হতে সংগ্রহ করেছি।

চিকিৎসা সেবা নিতে আসা আবদুর রহিম জানান, আমি বুকের ব্যথা ও জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হই। এখানে এসে নার্স ও ডাক্তারের চিকিৎসা সেবা কিছুটা ভালো পেলেও হাসপাতালের পরিবেশ দেখে খুবই খারাপ লাগলো। খাবার, সিট, টয়লেটের পরিবেশ খুবই খারাপ। যাবতীয় চিকিৎসার সকল কিছুই ফার্মেসী থেকে কিনে আনতে হয় আমাদের। সুস্থ হওয়ার চেয়ে এখানে অসুস্থ্যতার পরিবেশ বেশি দেখছি।

এ বিষয়ে উপজেলা মেডিকেল অফিসার ডাঃ মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, আমাদের জনবল সংকট এবং পর্যাপ্ত কক্ষ না থাকায় চিকিৎসা ব্যবস্থায় কিছুটা বিগ্ন ঘটে। চিকিৎসা সেবার সরঞ্জাম রাখার পর্যাপ্ত রুম নেই। পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা কর্মীর সংকট রয়েছে। আমরা রোগী সেবা দেওয়ার জন্য চিকিৎসা যতোটুকু প্রয়োজন তা দিয়ে যাচ্ছি। হাসপাতালের ময়লা আবর্জনা, গোসল খানা, টয়লেট, ড্রেন পরিস্কার রাখার জন্য সবসময় কর্মীদের বলে থাকি। নবনির্মিত ভবন গুলো দ্রুত হস্তান্তর করা হলে, অচিরেই এই সংকট থেকে দূর হওয়া যাবে বলে আশাবাদী। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আমাদের আস্বস্ত করেছেন যে, চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ভবন গুলোর কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছেন।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category