• মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন
Headline
ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক হলেন আব্দুল আজিজ কোরবানির পশুর কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই — মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী  মতলব উত্তরের মেঘনা পাড়ে রাসেল ভাইপার কামড় খেয়ে সাপ নিয়ে বাড়িতে যুবক কেএফটি কলেজিয়েট স্কুল ডিবেট ক্লাবের ‘ডিবেটার হান্ট ২০২৬’ সফলভাবে সম্পন্ন প্রতি পরিবার থেকে আমরা মাদকে না বলি, তাহলে মাদক নিমূল হয়ে যাবে: ড. মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন এমপি  শ্রীনগরে উৎসব মুখর পরিবেশে  বাংলা নববর্ষ উদযাপন মতলব দক্ষিণে প্রশাসনের বর্ণিল আয়োজনে বর্ষবরণ উদযাপিত মতলব উত্তরে উৎসবমুখর বাংলা নববর্ষ উদযাপন  মানুষ যেন সঠিক চিকিৎসা সেবা পায় সে বিষয়ে সবচেয়ে বেশী  গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার… ড.মো.জালাল উদ্দিন এমপি সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বিষয়ে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না  – ড. মুহাম্মদ জালাল উদ্দিন এমপি 

বিরামপুরে লক্ষ্য মাত্রা ছাড়িয়ে সরিষা চাষ বাম্পার ফলনের সম্ভবনা

Lovelu / ২৪০ Time View
Update : শনিবার, ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

মোঃ আবু সাঈদ, বিরামপুর (দিনাজপুর):

হলুদ চাদরে ঢাকা মাঠ মৌ মৌ গন্ধ, ভ্রমর ছুটছে মধু আহরণে, মাঠে মাঠে সরিষার ক্ষেতগুলো যেন সেজেছে প্রকৃতির হলুদ কন্যায়, দিগন্ত জুড়ে হলুদের বাহার, বাতাসে দোল খাচ্ছে সরিষার ফুলগুলো। এ দৃশ্য সকলেকেই আকৃষ্ট করছে। উত্তরের জনপদ দিনাজপুর জেলার বিরামপুর হলুদ চাদরে ঢাকা মাঠ, সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

বাজারে খাবার তেলের দাম বেশী হওয়ায় এবার সরিষা চাষে আগ্রহ বেড়েছে কৃষকের। এছাড়া জ্বালানি তেল, সার, কৃষাণের দাম বেশি জার ফলে কৃষিতে খরচ বেড়েছে তাই অল্প জমিতে বেশী ফসল ফলনের আশায় রোপা আমণ কাটাঁর পরেই জমি ফেলে না রেখে সরিষা চাষে প্রস্তুত করে কৃষকরা। স্বল্প খরচ আর কম সময়ে সরিষা চাষে বেশী লাভ। প্রতি বিঘা জমিতে সরিষার গড়ে ৫ থেকে ৬ মণ হয় । যা ৫/৬ জনের একটি পরিবারের সারা বছরের তেলের চাহিদা পুরণ করতে পারে। এর মেডিসিনাল ভেল্যুও আছে। সরিষার শিকড়ে নডিউল থাকে যা জমিতে নাইট্রোজেন যোগ করে। জৈব সার হিসেবে ও সরিষা গাছ অনেক গুরুত্ববহন করে। সরিষার খৈল পুকুরে এবং জমিতে ও গবাদিপশুর খাবার হিসেবে খুব গুরুত্বপূর্ণ ও গাছ এবং ছোবলা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হয়।

উন্নত জাতের সরিষা চাষ করে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা। ফলে অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর বেড়েছে সরিষার চাষ। প্রচলিত দেশি সরিষার চেয়ে ফলন বেশি হওয়ায় বারি-১৪, বারি-১৫, বারি ১৭ ও বারি ১৮ জাতের সরিষা চাষে আগ্রহী হচ্ছে। অনেকেই আমন ধান সংগ্রহের পর জমি ফেলে না রেখে সরিষা চাষ শুরু করেছেন। এরপর আবার বোরো ধান রোপণ করবেন তাঁরা। ফলে একই জমিতে বছরে তিনবার ফসল উৎপাদন হচ্ছে।

সরেজমিনে বিভিন্ন মাঠ দেখা যায়, সরিষা গাছে ফুল এসেছে অনেক গাছে ফলও এসেছে। সরিষা চাষিরা জানান, এবার প্রতি বিঘা জমি থেকে ৬-৭ মণ সরিষা উৎপাদনের আশা করছেন তাঁরা।

বিরামপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসেব মতে চলতি বছরে সরিষার চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৩৯০ হেক্টর । সেখানে সরিষা চাষ হয়েছে ১ হাজার ৫৩০ হেক্টর জমিতে।

উপজেলার কাটরা ইউনিয়নের খিয়ার মাহমুদপুর গ্রামের কৃষক ফৌরদুস হোসেন বলেন, গত বছরের চেয়ে এবার উপজেলায় দ্বি-গুন জমিতে সরিষার আবাদ করেছেন কৃষক গাছও ভালো হয়েছে আশা করি ফলন ভালো হবে। কৃষক মামুনুর রশীদ মামুন বলেন, সরকারি প্রণোদনার বীজ পেয়ে বারি-১৪ জাতের সরিষা চাষ করেছেন। আশা করছি ভালো ফলন পাব। অন্যান্য কৃষক জানান, প্রতিবিঘা জমিতে সরিষা চাষে খরচ হয় সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা। প্রতি মণ সরিষা বিক্রি করা যায় ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা দরে। প্রতি বিঘাতে গড়ে ৬/৭ মণ সরিষা উৎপাদন হলে বিঘা প্রতি ১৫ থেকে১৬ হাজার টাকা লাভ করা যায়। কম সময়ে কম খরচে বেশী লাভ হয়। সরিষা তোলার পরে বোরর আবাদ হয়। চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় বারি-১৪, ১৫, ১৭ ও ১৮ জাতের সরিষা চাষ হয়েছে।

বিরামপুর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ নিকছন চন্দ্র পাল বলেন, স্বল্প খরচে, কম সময়ে লাভজনক ফসল এটি। সরকারের কৃষিতে সু-দৃষ্টি রয়েছে। উপজেলায় সরকারী ভাবে প্রণোদনা দেয়া হয়েছে ৩ হাজার কৃষককে । ভাল বীজ এর পর্যাপ্ততা এবং প্রণোদনা প্রদান ও আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় সরিষা আবাদ বেড়েছে। প্রতি বছর প্রচুর পরিমাণ ভোজ্যতেল আমদানি করতে হয়। সরিষা আবাদের ফলে তেলের চাহিদা পুরনের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। এছাড়াও তিনি বলেন, আমাদের সকল কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক কৃষকদের কৃষি সহায়তায় ও বিষয়ে সু-পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।

 

 

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category